ক্যাম্প ইনচার্জের ‘মারপিটে’ কনস্টেবল হাসপাতালে

আপডেট: 07:28:53 13/08/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : ক্যাম্প ইনচার্জের মারপিটে আহত হয়ে সাইদুর রহমান নামে এক পুলিশ কনস্টেবল (কনস্টেবল নম্বর ১০৫৯) যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার অভিযোগ, ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তার ওপর চড়াও হয়েছেন ক্যাম্প ইনচার্জ।
গত ৭ আগস্ট বিকেলে ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণসরা পুলিশ ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। মারপিটের শিকার সাইদুর এ ঘটনা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন বলে জানান।
সাইদুর যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের নোঙরপুর গ্রামের চান্দ আলীর ছেলে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের মডেল (সার্জারি) ওয়ার্ডের ১৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন সাইদুর রহমান গতকাল সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সুবর্ণসরা ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই দাউদ হোসেন বিভিন্ন সময় লোকজন ধরে এনে টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিতো। তা ছাড়াও তিনি ক্যাম্পের সরকারি আটটি কাঁঠালগাছ, দুটি বাতাবিলেবুগাছ এবং একটি আম গাছ কেটে ফেলেন। আমিও ওই ক্যাম্পে কর্মরত। আমি এসব কাজের বিরোধিতা করতাম। এতে তিনি আমার ওপর ক্ষেপে ছিলেন।’
‘সবশেষ গত ৪ অথবা ৫ তারিখ রাতে ভুট্টো নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে ছেড়ে দেন ইনচার্জ। আমি এর প্রতিবাদ করলে ক্যাম্প ইনচার্জ আমার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হন। গত ৭ তারিখ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আমি ক্যাম্পে বসে জিডি লিখছিলাম। এসময় এসব বিষয় নিয়ে তার সাথে আমার তর্ক হয়। আমি তার এইসব অনিয়মের কথা এসপি স্যারকে বলে দেবো বললে সে আমার বুকে লাথি মারে। আমি চেয়ার থেকে পড়ে যাই। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর বাড়িতে ফোন করে আমাকে ওই দিনই বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বুকে-হাতে প্রচণ্ড ব্যাথার কারণে বাধ্য হয়ে আমি ৯ তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হই,’ বলছিলেন কনস্টেবল সাইদুর।
ডাক্তার রহিম মোড়ল ও ডাক্তার ফারহানার উদ্ধৃতি দিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু আজ সোমবার দুপুরে বলেন, ‘কারো দ্বারা তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাম ঘাড়ে আঘাত, হাতে রক্ত জমাটের চিহ্ন এবং বুকেও রক্ত জমাট ভাব আছে। কনুইতেও ছিলে যাওয়ার দাগ রয়েছে। আমরা তার যথাযথ চিকিৎসা দিচ্ছি। আজ সোমবার সকালে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আশা করছি বিকেলের মধ্যে তিনি বাড়ি ফিরে যাবেন।’
মারপিটের বিষয়ে সুবর্ণসরা ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই দাউদ বলেন, ‘আমি তাকে মারি নাই। এব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। ৮ তারিখ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।’
সাইদুর বলেছেন, ৭ তারিখ সন্ধ্যায় তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং ৮ তারিখ তাকে সিসি দেওয়া হয়। কেনো তার বিরুদ্ধে সাইদুর এ অভিযোগ করছেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই দাউদ বলেন, ‘অসুস্থতাজনিত কারণে তার বাড়ির লোকের উপস্থিতিতে তাকে এক এসআই ও দুই কনস্টেবল সাথে দিয়ে ৮ তারিখ সন্ধ্যায় বাড়িতে পাঠানো হয়। কী কারণে সে এমন অভিযোগ করছে তার কিছুই আমি জানি না।’

আরও পড়ুন