হাবিবুল বীরপ্রতীক কলেজে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট: 10:42:59 23/09/2017



img
img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির বিরুদ্ধে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের শাস্তি চাইছেন। তবে অভিযুক্তরা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কালিয়া উপজেলার পেড়লী বাজার এলাকায় অবস্থিত হাবিবুল আলম বীরপ্রতীক কলেজের অধ্যক্ষ আবু রেজা মোল্যা ও সভাপতি শেখ নজরুল ইসলামের যোগসাজসে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রিসহ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক ফি গ্রহণ করা হয়েছে।
এসব দুর্নীতির মধ্যে গত জুনে কলেজ মাঠ ভরাটকল্পে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। যার বাজার মূল্য ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কিন্তু বালি ব্যবসায়ী কালিয়ার বিষ্ণুপুর গ্রামের আমিরুল ইসলাম জানান, কলেজমাঠ ভরাট বাবদ তাকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
কলেজের সাবেক অভিভাবক সদস্য মোল্যা টিপু সুলতান বলেন, ‘কলেজমাঠ ভরাটের কাজে ১৫ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ হলেও নামমাত্র বালি ফেলে বাকি টাকা অধ্যক্ষ ও সভাপতি আত্মসাৎ করেছেন। এই দুর্নীতির সঙ্গে কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জড়িত।’
‘এছাড়া খড়ড়িয়ার ইমাম হোসেন তুষারের ৫০ হাজার টাকার অনুদানও অধ্যক্ষ ও সভাপতি আত্মসাৎ করেন।’
কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি মোস্তফা কামাল এবং জিন্নাত শেখ জানান, কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দুই কক্ষের পাকা ল্যাট্রিন, টিনশেডের দুটি শ্রেণিকক্ষ এবং শহীদ মিনার ভাঙতে হয়। এখানে দুই লক্ষাধিক টাকার ইট, খোয়া, রড ও টিন বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করেন কলেজ অধ্যক্ষ ও সভাপতি।
কলেজ বাস্তবায়ন কমিটির আরেক সদস্য শেখ আজিজুল হক আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি সঠিকভাবে কাজ করতে চাই বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এখন আর আমাকে মূল্যায়ন করে না।’
কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক আলমগীর হোসেন জানান, ১৯৯৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহারিক পরীক্ষার টাকা নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের এইচএসসি পরীক্ষায়ও ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। পেড়লী গ্রামের মুজিবুর শেখ, আলতাফ শেখ, আসলাম মোল্যা ও মোস্তফা মুন্সী জানান, আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত এনে কলেজের উন্নয়ন এবং শিক্ষার সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ চান তারা।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ আবু রেজা মোল্যা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। কলেজমাঠে বালি ভরাটের বিষয়টি সভাপতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলতে পারেন। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ও প্রশংসাপত্র বাবদ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ ঠিক না।’
কলেজ সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মাঠ ঠিকমতো ভরাট করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন বিরোধিতার খাতিরে আমার সঙ্গে বিরোধিতা করছেন।’
কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘কলেজমাঠে বালি ভরাটের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়নি। যাচাই-বাছাই করে বিল দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে, অধ্যক্ষ আবু রেজা মোল্যা ও সভাপতি শেখ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ২৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দোষীদের বিচার দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেন এলাকার কিছু লোক।

আরও পড়ুন