মাগুরায় কাত্যায়নী পূজার জমজমাট আয়োজন

আপডেট: 02:15:50 14/11/2018



img
img
img

মাগুরা প্রতিনিধি : ষষ্ঠি পূজার মধ্যে দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাগুরায় ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা আরম্ভ হলেও এর মূল উৎসব হবে বুধবার। যা শেষ হবে আগামী রোববার। তবে পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মেলা চলবে এক মাস।
দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে মাগুরা জেলায় দুর্গাপূজার এক মাস পরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে কাত্যায়নী পূজা।
এ বছর মাগুরা শহরের নান্দুয়ালী, ছানার বটতলা, জামরুলতলা, সাতদোহাপাড়া, নতুন বাজার, বাটিকাডাঙ্গা, পারনান্দুয়ালী, তাঁতিপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত হয়েছে ১৪টি মণ্ডপ। এছাড়া জেলা সদরের বাইরে গ্রাম পর্যায়ে আরো ৬৩টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। শহরের প্রতিটি পূজামণ্ডপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেট, প্যান্ডেল, তোরণ। আধুনিক  লাইটিংয়ের মধ্যমে সাজানো হয়েছে মন্ডপগুলো। লাইটিংয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা করা হয়েছে নানা রকম ডিসপ্লের। প্রতিটি মন্দিরেই স্থাপন করা হয়েছে নয়নাভিরাম সব প্রতিমা। এ বছর তামিল সিনেমা মেগাধিরা, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ, বৃন্দাবনপাড়াসহ বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক প্রতিমা ও গেট-প্যান্ডেল নির্মাণ করেছেন আয়োজকরা। 
শহরের জামরুলতলা পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক ও জেলার সমন্বিত পূজা কাত্যায়নী পূজা কমিটির আহ্বায়ক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ডু বলেন, ‘প্রতি বছর কাত্যায়নী পূজা দেখতে সারাদেশের পাশাপাশি নেপাল ও ভারত থেকে লাখ লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা হলেও উৎসবে মিলিত হন সব ধর্মের মানুষ। দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখে এ বছর আমরা আয়োজনে ভিন্নতা এনেছি। লাইটিংয়ে পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে নির্মিত প্রতিমা ও লাইটের কারুকার্যের মাধ্যমে দেখানো হবে দেব-দেবতাদের বিভিন্ন রকম ডিসপ্লে। যা দেখে দর্শনার্থীরা এবার বাড়তি আনন্দ উপভোগ করতে পারবে।’
পঙ্কজ কুণ্ডু বলেন, ‘ধর্মীয় শাস্ত্র মতে, কাত্যায়নী হলো দেবী দুর্গার আরেক নাম। দাপর যুগে যমুনা তীরে দেবী দুর্গার মাধ্যমে কৃষ্ণ আরাধনা করতো যমুনা পাড়ের মানুষ। সেই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের অনুসরণে কাত্যায়নী দেবীর মূর্তি স্থাপন করে ছয় দিন ধরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে মাগুরার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ পূজা করে আসছে। এখানে পূজা উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে সকল ধর্ম-বর্ণের লোকেরা। যে কারণে কাত্যায়নী পূজা মাগুরা জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত।’
এদিকে কাত্যায়নী পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী মেলায় অংশ নেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেছেন দোকানিরা।
পূজা চলাকালে জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিশেষ সভা করে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান জানান, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে একাধিক টিম। এছাড়া সাদা পোশাকধারী পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবে একাধিক ভ্রাম্যমাণ টিম।