বোর্ডের নির্দেশনা মানছে না সুন্দলী এস টি কলেজ

আপডেট: 07:23:39 22/10/2017



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী এস টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মাসুদ আলমের চূড়ান্ত বরখাস্তকে ‘এখতিয়ারবহির্ভূত’ উল্লেখ করে তাকে সপদে পুনর্বহালের জন্য নির্দেশ দিয়েছিল যশোর শিক্ষা বোর্ড। কিন্তু তাকে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
শিক্ষা বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আর্বিট্রেশন কমিটির ৬৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৬ আগস্ট মাসুদকে পুনর্বহালের জন্য কলেজের অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিস্তু সুন্দলী এস টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় বোর্ডের দেওয়া ওই নির্দেশনা অমান্য করে মাসুদ আলমকে সপদে পুনর্বহাল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশিষ্ট সূত্র জানায়, অসুস্থতার কারণে মাসুদ আলম চিকিৎসা ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কলেজ পরিচালনা পর্ষদ ‘অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত’ থাকার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এর পর নওয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল হাসানকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও সংস্কৃত বিষয়ের প্রভাষক চিন্ময়কুমার বিশ্বাসকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি মাসুদ আলমকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়নি। এরপর ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ‘পেশাগত অসদাচরণের’ দায়ে তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়। ওই বছরের ১৬ অক্টোবর চিঠি দিয়ে তাকে চূড়ান্ত বরখাস্তের বিষয়টি অবহিত করা হয়।
এই পদক্ষেপে সংক্ষুব্ধ হয়ে মাসুদ আলম গত ১ ডিসেম্বর যশোরের সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মাসুদ আলমের ‘চূড়ান্ত বরখাস্তাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না’ তা জানাতে কলেজ পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেন।
এর পর মাসুদ আলমের চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদনের জন্য অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ গত ১৯ জানুয়ারি যশোর শিক্ষা বোর্ডে কাগজপত্র পাঠান। গত ১৯ জুলাই শিক্ষা বোর্ডের আপিল অ্যান্ড আর্বিট্রেশন কমিটির ৬৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মাসুদ আলমকে সপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এরপর গত ১৬ আগস্ট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অমলকুমার বিশ্বাস সুন্দলী এস টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষক মাসুদ আলমকে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে চূড়ান্ত বরখাস্ত করে বিধি লঙ্ঘন করেছেন। আপিল অ্যান্ড আর্বিট্রেশন কমিটির সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর এর গত ১৯ জুলাই তারিখের আপিল অ্যান্ড আর্বিট্রেশন কমিটির ৬৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসুদ আলম, প্রভাষক, ইংরেজিকে সপদে পুনর্বহাল করে তার সমুদয় বকেয়া বেতন-ভাতাদি বিধিমোতাবেক প্রদান করার জন্য নির্দেশক্রমে বলা হলো।’
বোর্ডের দেওয়া নির্দেশনার পরও মাসুদ আলমকে পুনর্বহালের জন্য উদ্যোগী হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ গত ১৪ সেপ্টেম্বর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বোর্ডের চিঠি অমান্য করে মাসুদকে পুনর্বহাল না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাসুদ আলম বলেন, ‘আপিল অ্যান্ড আর্বিট্রেশন কমিটির সিদ্ধান্তের বিষয়টি আমাকে বোর্ড থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর আমি অধ্যক্ষের সাথে দেখা করে কলেজে যোগদানের জন্য মৌখিকভাবে ইচ্ছাপোষণ করি। তিনি বিষয়টি আমাকে পরে জানাবেন বলে জানান। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তিনি এ ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানাননি। আমি যোগদানের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’
জানতে চাইলে এস টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, ‘মাসুদ আলম বোর্ডের নির্দেশ পেয়ে যোগদান করতে আসেনি। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে তাই তাকে সপদে বহাল করা ন্যায়সঙ্গত নয়।’

আরও পড়ুন