কালিয়ায় সাংবাদিক কাউন্সিলরকে কুপিয়ে জখম

আপডেট: 08:46:23 12/08/2018



img

নড়াইল প্রতিনিধি : পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কালিয়ায় দৈনিক খবরের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি শেখ ফসিয়ার রহমান নামে এক সাংবাদিককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়েছে অবৈধ বালি উত্তোলনকারীরা।
নবগঙ্গা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের অদূরে ড্রেজার বসিয়ে বালি উত্তোলনসহ নদী ভাঙনের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করছিলেন তিনি। নির্যাতনের শিকার মারাত্মক আহত ওই সাংবাদিককে কালিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে কালিয়া শহরের বড় কালিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত সাংবাদিক পৌরসভার কাউন্সিল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
আহত ওই সাংবাদিক ও কালিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর ফসিয়ার রহমান জানান, উপজেলার প্রধান নদী নবগঙ্গার তীরবর্তী শুক্তগ্রাম এলাকায় গত ১৫ দিনের ভাঙনে কুমারপল্লীসহ শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙনে বর্তমানে শুক্তগ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পটিও হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকায় স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুক্তগ্রাম নদী ভাঙনের অদূরেই একটি স্বার্থাণে¦ষী মহল ওই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালি তুলছে বলে খবর পেয়ে তিনি সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করাসহ ছবি তুলতে যান।
তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালিয়া শহরে ফেরার পথে বড়কালিয়া স্লুইস গেটের পাশে ওত পেতে থাকা অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের নির্দেশে হাড়িডাঙ্গা গ্রামের তারিক, বালা, মেশকাত ও বড়কালিয়া গ্রামের অনির্বাণ ঘোষ ওরফে ছনোর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ওই সাংবাদিকের মোটরসাইকেল থামায়। তারা বালি উত্তোলনের ছবি তোলার কারণ জানতে চায়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ক্যামেরাটি কেড়ে নেয় এবং তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে।
এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কালিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মশিউল হক মিটুসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কেউ আটক হয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
কালিয়ার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এবিএম খালিদ ছিদ্দিকী বলেছেন, নবগঙ্গা নদীর বৃহাচলা স্পটে একটি বালিমহাল ইজারা দেওয়া আছে। কিন্তু শুক্তগ্রাম এলাকায় কোনো বালিমহাল ইজারা দেওয়া নেই। আর নদী ভাঙনের কাছে বালি উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
তিনি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে জানান।

আরও পড়ুন