পুলিশের বিরুদ্ধে খুনের মামলাকারীর বাড়িতে হামলা

আপডেট: 04:17:53 22/09/2017



img

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় দুর্বৃত্তরা পুলিশের বিরুদ্ধে রুজু করা হত্যা মামলার বাদীর বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসা সুপার মাওলানা সাঈদুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এনে পুলিশের দুই এসআইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তার ভাই বজলুর রহমান।
বাড়িটিতে হামলাকারীরা মামলা তুলে না নিলে বাড়ির সবাইকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার কাথন্ডা গ্রামের মামলার বাদী বজলুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
এ সময় দুর্বৃত্তরা বাদীর বাড়িতে ভাংচুর, মালামাল লুটপাট ও একটি দামি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। তারা মামলার বাদী বজলুর রহমানের ছেলে রাকিবুজ্জামানকে ব্যাপক মারপিট করে। মামলা তুলে না নিলে বাদীর স্ত্রীকে বিধবা, বোনকে বাবা-মাহারা ও ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
মামলার বাদী বজলুর রহমানের ছেলে রাকিবুজ্জামান বলেন, ''প্রথমে ১০-১৫ জন দুর্বৃত্ত আমাদের বাড়িতে এসে আমার বাবাকে ডাকাডাকি করতে থাকে। এ সময় ঘরের ভিতর থেকে বলা হয়, বাবা বাড়িতে নেই। এরপর তারা প্রথমে বারান্দার গ্রিল ভেঙে ফেলে। পরে দরজায় আঘাত করে ঘরের ভেতরে ঢোকে। দুর্বৃত্তরা মামলার বাদী আমার বাবা বজলুর রহমানকে না পয়ে আমাকে  ব্যাপক মারপিট করে। আমি বলি, 'আমি অনেক অসুস্থ, আমাকে মারবেন না।' তখন দৃবৃর্ত্তরা বলে, 'তোর বাপকে মামলা তুলে নিতে বল। না হলে তোকে মেরে ফেলবো।''
'সন্ত্রাসীদের সবার মাথায় হেলমেট পরা ছিল। তাদের সাথে তিনজন পুলিশ সদস্যও ছিল,' দাবি বাদীর স্ত্রী-সন্তানের।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহম্মেদ বলেন, 'এমন ঘটনা আমার জানা নেই।'
উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরায় নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মাদরাসা সুপার মাওলানা সাইদুর রহমানকে। ঘুষ না পেয়ে পুলিশ তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বলে পরিবারের অভিযোগ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাওলানা সাঈদুর রহমান।
এ ঘটনায় পুলিশের দুই এসআইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা আমলী আদালত-১ এ গত ২০ সেপ্টেম্বর একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় ভাই বজলুর রহমান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পিবিআই খুলনাকে নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন