স্থানীয় উদ্যোগই ভরসা স্বনামধন্য স্কুলটির

আপডেট: 01:50:08 07/03/2018



img
img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : নড়াইলের আলোকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। কখনো কখনো লাইব্রেরি বা স্কুলের বারান্দায়ও ক্লাস নিতে হচ্ছে।
জরাজীর্ণ ভবন, প্রয়োজনীয় ক্লাস কক্ষ ও বেঞ্চের অভাবে স্বনামধন্য এ বিদ্যালয়ে পাঠদান ভীষণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৫০ বছরের পুরনো এ বিদ্যালয়টিতে সরকারিভাবে কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। পায়নি প্রয়োজনীয় কোনো বরাদ্দ। শিক্ষার্থীদের বেতন, স্থানীয় ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদ ও শিক্ষকদের অনুদান ও চাঁদায় বিদ্যালয়ের ভবনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নে আলোকদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় আড়াইশ। বিদ্যালয়ে এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফল ঈর্ষণীয়। ২০১৭ সালে আইসিটি ব্যবহার বিষয়ে নড়াইল জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে পুরস্কার জুটেছে। এছাড়া সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতেও শিক্ষার্থীরা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখে।
দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের তিনতলা বিশিষ্ট পাকা ও টিনশেড দুটি ভবন রয়েছে। তিনতলা ভবনে ছয়টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ক্লাস কক্ষ, একটি কম্পিউটার ল্যাব এবং একটি লাইব্রেরি। এছাড়া টিনশেডে দুটি ক্লাস কক্ষ এবং শিক্ষক মিলনায়তন। তিনতলা ভবনটি দেশ স্বাধীনের পর স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়। এ ভবনটি এখন জরাজীর্ণ। দোতলার ছাদের রডে মরিচা পড়ে গেছে। কয়েক জায়গায় রডে মরিচা পড়ে ছাদ ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলে টিনশেড দিয়ে পানি পড়ে।
স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী অর্পিতা দে ও নুসরাত জামান রিতু জানায়, কক্ষের অভাবে অনেক সময় ঠিক মতো ক্লাস হয় না। বৃষ্টি হলে টিনশেড চুইয়ে পড়া পানিতে বই-খাতা ভিজে যায়। ফলে ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়।
নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আহসান হাবিব ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মুরসালিন ইসলাম জানায়, রুমের বেঞ্চর অভাবে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হয়। এ সময় শিক্ষকদের ক্লাস সম্পর্কিত বক্তব্য খাতায় লিখতে কষ্ট হয়। অনেক সময় লাইব্রেরি এবং বারান্দায়ও ক্লাস চলে।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মুরারি গোলদার বলেন, গত দুই বছর ধরে বিভিন্ন সময় খোলা আকাশের নিচে, লাইব্রেরি রুমে, কখনো বারান্দায় ক্লাস নিতে হয়। দুটি কক্ষে ৫০টি বেঞ্চ হলে আপাতত এ সমস্যার সমাধান হতো বলে তিনি জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন মল্লিক বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময় আবেদন-নিবেদন করার পরও কোনো সরকারি ভবন নির্মিত হয়নি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষকরা চাঁদা তুলে নতুন বেঞ্চ তৈরি এবং মেরামত করে থাকে। এবারো স্থানীয়ভাবে অর্থ সংগ্রহ করে বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র কেনার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন