চৌগাছায় রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী

আপডেট: 07:12:44 20/11/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে চৌগাছার সম্ভাব্য প্রার্থীরা রেকর্ড গড়েছেন।
এতদিন বড় কোনো দল বা জোট থেকে মনোনয়ন লড়াইয়ে সেভাবে না থাকলেও এবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টসহ বিভিন্ন দলের মনোনয়ন লড়াইয়ে নেমেছেন চৌগাছার বেশ কয়েকজন নেতা। দলীয় এবং সামাজিক অঙ্গনে তারা তারা সবাই পরিচিত মুখ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে চার এবং বিএনপির তিন নেতা রয়েছেন দল ও জোটের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ছোট ছোট দলগুলো থেকে কয়েকজন নেতা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামলেও এবারেই রেকর্ড সংখ্যক নেতা বড় দল থেকে মনোনয়ন চাইছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নিশ্চিত হওয়া যাবে চৌগাছার কোনো নেতা ভাগ্যে বড় দুটি জোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন কি-না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে মহাজোটের মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান। এসএম হাবিব বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো চৌগাছা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি চারবার চৌগাছা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছেন। আওয়ামী লীগের করা কয়েকটি জরিপে তিনি জনপ্রিয়তায় চৌগাছায় শীর্ষে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এসএম হাবিবুর রহমান চৌগাছার বহু স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, মসজিদ-মন্দির, রাস্তাঘাটের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন। চৌগাছায় তার বাবার নামে একটি বৃহৎ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং নিজের নামে একটি বৃহৎ কলেজ করেছেন তিনি।
মনোনয়ন লড়াইয়ে রয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট এবিএম আহসানুল হক আহসান। তিনি ২০১৪ সালেও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
মনোনয়ন চাইছেন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক যশোর উপশহর মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশীদ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতা দুইবার চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে দলের তরুণদের সুযোগ করে দিতে আর নির্বাচন করেননি। সজ্জন এই নেতা ইউপি চেয়ারম্যান থাকাকালে তার সততার জন্য চৌগাছায় অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম সাইফুর রহমান বাবুল। তিনি দীর্ঘদিন চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রলীগের মধ্যে এখনো তিনি তুমুল জনপ্রিয়। তিনি চৌগাছা পৌরসভায় দুইবার নির্বাচন করেছেন। একবার চার হাজারের অধিক ভোট পেয়েও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিএনপি প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। আর ২০১৫ সালে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। সেবারও তিনি তিন হাজার সাতশর বেশি ভোট পান।
এছাড়া মহাজোটের প্রার্থী হতে তৎপরতা চালাচ্ছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট এনামুল হক। তিনি চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংগঠনিক ও সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। দীর্ঘদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। চারবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। এবারে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে নেত্রীর কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন চাইছি। তাছাড়া দেশ স্বাধীনের পর থেকে আসনটিতে চৌগাছার কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ চাইছে এবারে চৌগাছার প্রার্থী দেওয়া হোক। মনোনয়ন পেলে বিজয়ী হয়ে দলীয় সভানেত্রীকে আসনটি উপহার দেবো।’
বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন চৌগাছার তিন নেতা। তারা হলেন, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম। তিনি প্রায় ২৫ বছর দলটির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে গত দশ বছর ধরে উপজেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে দুইবার পাতিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। চৌগাছার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মন্দির স্থাপন, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নের তার রয়েছে ব্যাপক অবদান। তিনি দু’দুবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি থেকে দলের ক্রান্তিকালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়া এই নেতা দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের স্নেহভাজন ছিলেন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকেই দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন।
দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক নেতা হলেন যশোর জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, চৌগাছা উপজেলা যুবদলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম। তিনি ভিপি শফিক নামেই চৌগাছায় সমধিক পরিচিত। চৌগাছা সরকারি কলেজের সর্বশেষ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি তিনি। বর্তমানে কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরব রয়েছেন।
বিএনপি থেকে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করা সাবেক ছাত্রদল নেতা হুমায়ুন কবীর। তিনি উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। অবশ্য এলাকার লোকজনের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ নেই।
যশোর-২ আসনে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী করা হয় জামায়াতে ইসলামীর মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইনকে। এবারো তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী। তা সত্তে¡ও জোটের প্রধান দল বিএনপি প্রার্থীরা আশা ছাড়তে নারাজ। তারা যে যার মতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ধানের শীষ পাওয়ার।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিন আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ায় দলের সাংগঠনিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই এবারে বিএনপির কোনো প্রার্থীকেই যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপির প্রার্থী মনোনীত করা হোক। বিএনপিতে যোগ্য প্রার্থী রয়েছে। দল তাদের মূল্যায়ন করবে- এটাই আমাদের বিশ্বাস।’
অন্যদিকে, বাম গণতান্ত্রিক জোট থেকে বাসদের প্রার্থী দলের উপজেলা সমন্বয়ক সহ-অধ্যাপক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিএম সেলিম রেজা এবং ওলামা পার্টির নেতা মুফতি ফিরোজ শাহের বাড়িও চৌগাছায়। এদের মধ্যে বিএম সেলিম রেজা ২০০১ সালেও জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র প্রার্থী মুফতি আসাদুজ্জামানও চৌগাছা উপজেলার বাসিন্দা। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে তিনি দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন।

আরও পড়ুন