পুলিশকে ‘তথ্য দেওয়ায়’ জেলে, ভাই আধমরা

আপডেট: 02:02:17 29/05/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের কেশবপুরে এক মাদক ব্যবসায়ীর ব্যাপারে তথ্য দেওয়ায় উল্টো রফিকুল ইসলাম মিলন নামে একজনকে ফেনসিডিল মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, তথ্যদাতার ভাই শেখ বিল্লাল হোসেন বিলুকে মাদক ব্যবসায়ীরা লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তবে থানা পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, রফিকুল ইসলাম নিজেই মাদক ব্যবসায়ী। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও ‘রফিকুলরা সুবিধার লোক না’ বলছেন। যদিও পূর্ববিরোধের কারণে চেয়ারম্যান তাদের ফাঁসাতে চাইছেন বলে অভিযোগ আক্রান্ত পরিবারটির।
ফেনসিডিলসহ চালান হওয়া রফিকুল ইসলাম মিলন ও সন্ত্রাসী হামলায় আহত বিল্লাল হোসেন বিলু কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ী ইউনিয়নের চিংড়ি গ্রামের শওকত আলীর ছেলে।
তাদের বাবা শওকত আলী দাবি করেন, তার ছেলে রফিকুল ইসলাম মিলন কৃষিকাজ করেন। এছাড়া তিনি ফলের ব্যবসায়ও জড়িত। তবে কোনো মতেই মাদক ব্যবসায়ী না।
তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘চিংড়ি গ্রামের বহুল আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান গত পরশু সন্ধেয় দুই বস্তা ফেনসিডিল নিয়ে যাচ্ছিল। আমার ছেলে রফিকুল ইসলাম মিলন এই তথ্য দেয় কেশবপুর থানার এসআই ফকির ফেরদৌস আলী ও এএসআই শ্যামল সরকারকে। এই খবরের ভিত্তিতে এসআই ফকির ফেরদৌস আলী, এএসআই শ্যামল সরকার, এএসআই মহসিন আলী অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী সাইদুরকে ফেনসিডিলসহ আটকও করেন। পরে মোটা টাকার বিনিময়ে মাদকসহ সাইদুরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। পরে তারা সাইদুরকে জানিয়ে দেয়, মাদক পাচারের এই গোপন তথ্য দিয়েছে মিলন। এর ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ আমার বাড়িতে এসে মিলনকে ডেকে থানায় নিয়ে যায়। পরে ১৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে তার নামে মামলা দিয়ে আজ সকালে কোর্টে চালান দেয়। আদালত মিলনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেশবপুর থানার এএসআই শ্যামল সরকার দাবি করেন, ‘মিলন নিজেই মাদক ব্যবসায়ী। সে বিভিন্ন সময় ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে হয়রানি করে আসছে। গতরাতে ঘর থেকে ১৫ বোতল ফেনসিলিসহ তাকে আটক করা হয়েছে।’
এদিকে, অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের কাছে মাদক পাচারের তথ্য দেওয়ার ‘অপরাধে’ মিলনকে জেলে পাঠিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি ফেনসিডিল ব্যবসায়ীরা। সোমবার ইফতারের পর মিলনের ছোট ভাই শেখ বিল্লাল হোসেন বিলু ফেনসিডিল ব্যবসায়ী সাইদুর ও তার সহযোগীদের দ্বারা আক্রান্ত হন। বিলু তখন চিংড়ি বাজারে চা পান করছিলেন। অভিযোগ, সাইদুরের নেতৃত্বে হারুন,  সোহাগসহ ১০-১৫ জন মিলে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে বিলুকে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিলুর বোন ফতেমা জামান অভিযোগ করেন, সাইদুর চিংড়ি বাজারের বহুল আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী। পুলিশ তার কাছ থেকে মাসোহারা নেয়। সে কারণে সাইদুরকে আটক করে না।
‘অথচ পুলিশকে সহযোগিতা করায় আমার এক ভাইকে মাদক দিয়ে কোর্টে চালান দিয়েছে। আরেক ভাইকে মেরে গুরুতর আহত করেছে। পুলিকে বলার পরও তারা সাইদুরকে আটক করেনি,’ সুবর্ণভূমিকে বলছিলেন ফতেমা।
জানতে চাইলে কেশবপুর থানার ওসি সৈয়দ আব্দুল্লাহ চালান হওয়া রফিকুল ইসলাম মিলনকে ‘চোর’ হিসেবে আখ্যা দেন।
তার ভাষ্য, ‘বেশ কিছুদিন আগে চিংড়ি বাজারে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল মিলন। এই নিয়ে বিচার-শালিশও হয়েছে। ওই চুরির ঘটনায় সাইদুরকে ফাঁসানোর জন্য তার নামে অপবাদ রটিয়ে বেড়ায়। সে দুই-তিন বার পুলিশকে মাদকের ভুল তথ্য দিয়েছে। গতরাতে মিলন ১৫ বোতল ফেসডিলসহ সাইদুর রহমান নামে একজনকে ফাঁসাতে গিয়েছিল। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে মিলনকেই ওই ১৫ বোতল ফেসিডিলসহ চালান দিয়েছে।’
প্রায় একই ধরনের তথ্য দেন সাগরদাঁড়ী ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মুস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত। তবে তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, রফিকুল ইসলাম মিলন ফেনসিডিল ব্যবসায়ী কি-না আমার জানা নেই। তবে তারা লোক ভালো না।’
এ প্রসঙ্গে মিলন-বিলুর বাবা শওকত আলীর দাবি, চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। এই কারণে তিনি সত্য কথা বলছেন না।
এদিকে, আহত বিলুর শারীরিক অবস্থা সম্বন্ধে জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ইন্টার্ন ডাক্তার তাজিকুর রহমান কনক সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘তাকে ভারি বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।’

আরও পড়ুন