নিজেদের রক্ষা করতে স্কুলছাত্রীদের মার্শাল আর্ট

আপডেট: 05:31:30 25/10/2017



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : ‘আমরা নারী, আমরাও পারি- রুখবো ভয়, করবো জয়” স্লোগান নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েরা শিখছে মার্শাল আর্ট।
স্কুলপড়ুয়া মেয়েরা প্রায়ই চলতি পথে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে থাকে। ফলে অভিভাবকরা মেয়েকে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় পাঠিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন। মেয়েদের নিরাপদ পথ চলতে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী সুকান্তকুমার বিশ্বাসের আর্থিক সহযোগিতায় এই মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ চলছে।
গত এক বছর হলো বারোবাজার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ৩০ জন মেয়েকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মার্শাল আর্টে ব্লাক বেল্ট পাওয়া এমডি মোশারফ করিম সপ্তাহে দুই দিন মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার এই প্রশিক্ষণ দেন। প্রশিক্ষণ কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেন কোরিয়া প্রবাসী সুকান্তকুমার বিশ্বাসের দুই বন্ধু কামরুজ্জামান তুষার ও অনুপকুমার বিশ্বাস।
সুকান্ত বিশ্বাস কালীগঞ্জ উপজেলার রাখালগাছি ইউনিয়নের খোসালপুর গ্রামের সন্তোষ বিশ্বাসের ছেলে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করছেন তিনি।
মার্শাল আর্টে অংশ নেওয়া সস্তম শ্রেণির মালিহা নুর অন্তরা ও ফাল্গুনী এবং ষষ্ঠ শ্রেণির সুমনা ইয়াসমিন শোভা জানায়, তারা প্রায়ই স্কুলে যাওয়া আসার পথে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ে। সে সব সমস্যার মোকাবেলা করতেই মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।
এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিকূলতার কারণে তারা শরীর চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। যে কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি সপ্তাহে দুই দিন এই মার্শাল আর্ট শিখে। খুব ভালো লাগে, অনেক আনন্দ পায় তারা।
অভিভাবক সমেন দত্ত ও হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস মেয়েদের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ থাকলে যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে। আমরা চাই মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ সেবায় অবদান রাখুক। যে কারণে আমাদের মেয়েদের বড় সমস্য টিজিংয়ের হাত থেকে রক্ষা করা।’
দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদেশের মেয়েরা প্রায়ই টিজিংয়ের শিকার হয়। বখাটে ছেলেদের কারণে প্রায়ই দেখা যায় মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যে কারণে মেয়েদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অভিভাবকরা অপ্রাপ্ত বয়সে তাদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন; যা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ক্ষতিকর।’
‘এ অবস্থায় একটি ছেলে যদি বাইরে যায়, তাহলে অভিভাবকরা কিন্তু অতটা চিন্তা করেন না, যতটা চিন্তা করেন একটি মেয়ের বেলায়। যদি একটি মেয়ের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ থাকে, তাহলে সে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে,’ বলছিলেন সুকান্ত।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আলোচিত তনু ও খাদিজার ঘটনা দেশবাসীকে শিহরিত করেছে। তাদের যদি এই প্রশিক্ষণ থাকতো তাহলে হয়তো নিজেদের রক্ষা করতে পারতো বলে মনে করেন সুকান্ত। 
বারোবাজার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুপকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ মেয়েদের জন্য একটি ভালো উদ্যোগ। আমরা বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করছি।’