চৌগাছায় দৌড়ের ওপর বর-কনের পরিবার

আপডেট: 02:06:43 13/11/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছায় বাল্য বিয়ের সংবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপস্থিত হলে প্রথমে কনের বাড়ির সবাই পালিয়ে যান। এরপর ইউএনও বরপক্ষের বাড়িতে গেলে সেখান থেকে নববধূকে নিয়ে ওই পরিবারও বাড়ি-ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাল্য বিয়ে দেওয়ার অপরাধে কনের পিতাকে আটক করা হয়। অবশ্য ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে মুক্তি পান তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে উপজেলার মন্মথপুর ও তাহেরপুর গ্রামে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম বলেন, ‘সোমবার বিকেল চারটায় সংবাদ পাই যে, উপজেলার চৌগাছা সদর ইউনিয়নের মন্মথপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের স্থানীয় একটি মাদরাসাপড়ুয়া নাবালিকা মেয়েকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে একই উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মমিনুর রহমানের সঙ্গে। এসময় কনের বাবাকে মেয়ের জন্মসনদ নিয়ে নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য সংবাদ পাঠানো হয়। কিন্তু মেয়ের বাবা মূল জন্ম সনদ লুকিয়ে ভুয়া জন্মসনদ দিয়ে একজনকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পাঠান। পাশাপাশি মেয়ের বিয়ের কাজও সম্পন্ন করে ফেলেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম জন্মসনদটি যাচাই করে দেখতে পান সেটি ভুয়া। এরপর তিনি সন্ধ্যার আগ দিয়ে পুলিশসহ অভিযান চালান মন্মথপুর গ্রামে। ইউএনও পৌঁছানোর খবরে মেয়ের বাড়ি থেকে সবাই সটকে পড়েন। বরযাত্রী বহনকারী একটি মাইক্রোবাস ছাড়া আর কেউই ছিলেন না সেখানে। সেটির চাবি নিয়ে নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এরপর বরের গ্রামের বাড়ি তাহেরপুরে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু আগেই সংবাদ পেয়ে নববধূ ও বরসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা মেরে পালিয়ে যান।
পরে মাইক্রোবাসের চাবি নিতে ইউএনও কার্যালয়ে লোকজন এলে তাদের মধ্যে থেকে শনাক্ত করে কনের বাবা রবিউল ইসলাম ওরফে সাধুকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা জারিমানা করা হয়। তাকে রাখা হয় থানাহাজতে। পরে রাত দশটার দিকে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান তিনি।

আরও পড়ুন