কলকাতায় হকার উচ্ছেদের বিকল্প

আপডেট: 02:41:55 21/05/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : কলকাতার রাস্তাঘাটে প্রতিবছরই বাড়ছে হকারের সংখ্যা।
কলকাতার সবচেয়ে জনপ্রিয় বাজার নিউ মার্কেটের ভেতরের দোকানগুলোতে প্রায় সবকিছু পাওয়া গেলেও সেসবের অনেক কিছুই কেনা যায় নিউ মার্কেটের ভেতরে না গিয়েই।
কারণ নিউ মার্কেটের বাইরে রাস্তায় আর ফুটপাতে অসংখ্য অবৈধ হকার কম দামে বিক্রি করেন একই জিনিস।
কলকাতার প্রায় দখল হয়ে যাওয়া এসব রাস্তাঘাটকে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করেন বনানী কাকার। তিনি জানান, কোলকাতার রাস্তায় অবৈধ হকারদের দৌরাত্ম দিনদিন বেড়েই চলেছে।
"গত দশ বছরে এই সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে। প্রতিবছর হকারের সংখ্যা বাড়ছে," বলেন মিজ. কাকার।
মিজ. কাকার মনে করেন হকারদের উপস্থিতি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।
"এই হকারদের জন্য রাস্তাঘাট নোংরা তো হয়ই, তারা সরকারকে কোনো করও দেয় না," বলেন মিজ. কাকার।
কলকাতার রাস্তাঘাটে এরকম হকারের সংখ্যা আড়াই লাখেরও বেশি। এই হকারদের উৎখাত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন ব্যবসায়ী মুদা পাতেরিয়া।
মি. পাতেরিয়ার মতে, আইন করে হকারদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে।
"আমার মনে হয় ভারতে ভয় দেখানোর চেয়ে বেশি কার্যকর পদ্ধতি আর নেই। তাই আইন করে ও শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে যদি তাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তা কার্যকর হবে বলে আমি মনে করি," বলেন মি.পাতেরিয়া।
তবে কলকাতার প্রশাসন একটু ভিন্নভাবে এই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে।
শহরের পাটুলি এলাকার একটি লেকে একটি ভাসমান বাজার তৈরি করেছে তারা।
সেখানে একশ'র বেশি নৌকায় নানা ধরনের জিনিসপত্র বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা, যাদের প্রায় সবাই একসময় ছিলেন হকার।
প্রতিটি নৌকায় একসাথে দুইজন করে হকার তাদের জিনিসপত্র বিক্রি করতে পারবেন। লটারির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পরপর কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে যে কারা নৌকায় দোকানি হিসেবে বসার সুযোগ পাবেন।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্ট ভারতের বৃহত্তম অনলাইন স্টোর ফ্লিপকার্টের সঙ্গে সম্প্রতি একটি নতুন চুক্তি করেছে। যা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে ভারতের বাজার ধীরে ধীরে অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছে।
তবে এখনো ভারতের অধিকাংশ মানুষই তাদের দৈনন্দিন জীবনের কেনাকাটার জন্য হকারদের ওপরই নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেন জাতীয় হকার্স ফেডারেশনের নেতা শক্তিমান ঘোষ।
মি. ঘোষ মনে করেন সদিচ্ছা থাকলে সরকার সহজেই এই হকারদের ব্যবসা চালানোর সুযোগ করে দিতে পারবে।
"ভারতের ৮০ কোটি মানুষ এখনো কেনাকাটার জন্য হকারদের ওপর নির্ভরশীল। তারা সবকিছু কেনে হকারদের কাছ থেকে," বলেন মি. ঘোষ।
"পুরনো কলকাতায় যেমন হকারদের ভাসমান বাজারে জায়গা দেওয়া হয়েছে, চাইলে নতুন কলকাতায়ও সেরকম বিকল্প পদ্ধতিতে হকারদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব বলে মনে করি আমি। এর জন্য সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকাই যথেষ্ট," বলে মন্তব্য করেন মি. ঘোষ।
সব নাগরিকের কাছ থেকে নিশ্চিতভাবে কর আদায়ের লক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হকার উৎখাতের উপর বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কলকাতার রাস্তাঘাটে হকার হিসেবে কাজ করা লক্ষাধিক মানুষ হারাবে তাদের কর্মসংস্থান।
সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন