খালেদার আপিল প্রশ্নে সিদ্ধান্ত ২ জুলাই

আপডেট: 01:04:53 24/06/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : কুমিল্লায় পেট্রোল বোমায় বাস পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মামলায় খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকবে কি না, আপিল বিভাগ সেই সিদ্ধান্ত জানাবে ২ জুলাই।
হাই কোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ রোববার আদেশের এই তারিখ ঠিক করে দেয়। 
আর কুমিল্লায় কভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে লিভ টু আপিল করেছে, তা সোমবার শুনবে সর্বোচ্চ আদালত।  
রোববার কুমিল্লার হত্যা মামলায় লিভ টু আপিলের ওপর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন এজে মোহাম্মদ আলী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমেদ, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের রায়ের পর সাড়ে চার মাস ধরে বন্দি খালেদা জিয়া ইতিমধ্যে ওই মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু কুমিল্লার নাশকতার দুটিসহ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতার দেখানোয় তার মুক্তি আটকে যায়।
সেই পথ খুলতে মামলাগুলোতে হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। গত ২৮ মে হাই কোর্ট কুমিল্লার মামলা দুটিতে জামিন মঞ্জুর করলে ঈদের আগে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন দলটির নেতারা।
কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে চেম্বার আদালত ওই জামিন স্থগিত করে দেয়। পরে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ ওই স্থগিতাদেশ বহাল রেখে ২৪ জুন লিভ টু আপিল শুনানির তারিখ দিলে ঈদের আগে খালেদার মুক্তি আটকে যায়।
এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি রোববার আপিল বিভাগে শুনানির জন্য ওঠে এবং কুমিল্লার হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয়। পরে আদালত আদেশের দিন ঠিক করে দেয়।  
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, সরকারই ‘ষড়যন্ত্র’ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আটকে রেখেছেন। তবে তা প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের বিষয় এবং তার উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
এই দুটি মামলার মধ্যে হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় বিএনপির অবরোধের মধ্যে একটি নৈশকোচে পেট্রোলবোমা হামলায় আট যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায়।
চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই নুরুজ্জামান পরদিন খালেদাকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন।
কুমিল্লার বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলাটিও নাশকতা নিয়ে। ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রামে একটি কভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে চৌদ্দগ্রাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করা হয়।
২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তাতে খালেদা জিয়াসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন