রাস্তার ধারে শিম, খরচ কম লাভ বেশি

আপডেট: 02:04:21 04/11/2017



img

ইলিয়াস হোসেন, তালা (সাতক্ষীরা) : সে প্রায় এক যুগ আগের কথা। তালা-পাটকেঘাটা সড়কের পাশে পতিত জমিতে শিম চাষ করেছিলেন এলাকার এক শৌখিন চাষি। তার দেখানো পথ মাড়িয়েছেন আশপাশের অনেকেই। এখন রীতিমতো বাণিজ্যিকভিত্তিতে শিম চাষ হচ্ছে সড়কটির পাশে।
পতিত জমির এই ব্যবহার দৃষ্টি কাড়ে পথচারীদের। আবার আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন স্থানীয় চাষিরা।
তালা মুক্তিযোদ্ধা কলেজ মোড় থেকে শুরু করে অবলা ঘোষের আমবাগান পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে শিমের মাচা। উঁচু জায়গা হওয়ায় মওসুম শুরুর আগেই চারা রোপণ করেন স্থানীয় চাষিরা। এতে করে অন্যদের আগে বাজারে তাদের শিম আসে। দামও পান ভালো।
স্থানীয় বাজারে এখনো পর্যাপ্ত শিম ওঠেনি। অথচ রাস্তার ধারে চাষ করা শিম কবেই এসেছে বাজারে। প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২৫ টাকা দাম। রাস্তার পাশে যাদের কৃষিজমি আছে, তারাই জমির শেষাংশের সরকারি জায়গায় চাষ করছেন শিম। এনিয়ে এখনো কোনো গোলযোগও হয়নি।
প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বাস, ট্রাক, মোটরভ্যানে চলাচল করেন হাজারো মানুষ। তাদের অনেকেই অবাক বিস্ময়ে দেখেন, রাস্তার ধারে বুনো ফুল না, শিমের উজ্জ্বল ফুলের বাহার।
স্থানীয় চাষি গণেশ দাশ (৫০) ও হাফিজ শেখ (৪৫) জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা এইভাবে শিম উৎপাদন করছেন। সাধারণ মানুষের নজর কাড়লেও বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাদের দৃষ্টিতে আসেনি। এখন পর্যন্ত তাই পরামর্শও জোটেনি কারো। নিজেদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই তারা এভাবে দরকারি সবজিটি উৎপাদন করছেন।
গণেশ বলেন, ‘নিতান্তই শখের বসে রাস্তার পাশে বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডাল পুঁতে বেড়া দিয়েই শুরু করেছিলাম শিমের চারা রোপণ। ফলন ভালো হওয়ায় এখন পরিকল্পিতভাবে শিম আবাদ করছি। এগিয়ে এসেছেন অন্য চাষিরাও।’
চাষিরা বলছেন, শ্রাবণ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত আট মাস স্থায়ী হয় এই গাছ। পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে সপ্তাহে একদিন কীটনাশক স্প্রে করেন। শিমের এই পরিকল্পিত আবাদে তারা কোনো বাড়তি শ্রমিক নিয়োগ করেন না। নিজেরাই নিজেদের ক্ষেতের শ্রমিক।
চাষিরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে তারা আরো ভালো করতে পারবেন।