গড়াইয়ের বুক থেকে অবাধে বালি উত্তোলন

আপডেট: 05:40:44 19/05/2018



img
img

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ী ঘাটের গড়াই নদীর বুক থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালি ও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ৪-৫টি মেশিন ছাড়াও শ্রমিকরা হাতে খুড়ছেন নদীর বুক ও কিনারা। এতে করে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিয়মিত বালি-মাটি তোলায় কাতলাগাড়ী এলাকা এখন ধুলি ধোঁয়া-শব্দ দূষণের এলাকায় পরিণত হয়েছে। গ্রাম্য রাস্তায় যন্ত্রযানের অবাধ চলাচলে হুমকির মুখে পড়েছে শিশুদের জীবন।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিদিন কাতলাগাড়ী বাজারের অদূরে গড়াই নদীর অবৈধ বালিমহল ব্যবহার করে নাটা হাম্বার, মিনি ট্রাক, বড় ট্রাক মিলে শতাধিক গাড়ি দিনভর বালি নিয়ে যায় দূরদুরান্তে।
সরেজমিন দেখা যায়, কৃষ্ণনগর চর থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গড়াই নদী থেকে নিয়মিত বালি বিক্রি করছে প্রভাবশালী মহল। ভোর থেকে শুরু করে গভিররাত পর্যন্ত ছোট-বড় নানা যানবাহনে এসব বালি পরিবহন করা হচ্ছে।
বালিমহল ব্যবহারকারীরা সরকারি দলের প্রভাবশালী হওয়ার কারণে স্থানীয় জনসাধারণ ভয়ে কিছু বলতে পারেন না। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, ভূমিধস, পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি গড়াই নদীর এ বালিমহল দখলকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা-হাঙ্গামাও কম ঘটেনি। দিনশেষে হাজার হাজার টাকার বালি বিক্রির টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ঘটে এসব অঘটন।
চরে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, প্রতিটি বড় ট্রাক ৫০০ টাকা, ট্রাক্টরচালিত ইনজিনগাড়ি ৪০০ টাকা, নাটা হাম্বার ৩৫০ টাকা ও অন্যান্য সব পরিবহনে তোলা বালি ২২০ টাকা হারে বিক্রি হয়। এ চরে নিয়মিত শতাধিক যানবাহন বালি পরিবহনে কাজ করছে। তার মতে, বালিমহলকে কেন্দ্র করে শৈলকুপা ও ওপারের কুষ্টিয়া জেলার খোকসা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা হিস্যা নিয়ে থাকেন।
কৃষ্ণনগর, বড়–রিয়া, কীর্ত্তিনগর এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর বালি ও মাটি কাটার ফলে গড়াই নদীর এপারে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। ঘরবাড়ি ভেঙে নিঃস্ব হয় মানুষ, নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ফসলি জমি।
বালি উত্তোলনকারী কৃষ্ণনগর গ্রামের আতিয়ার ও মাটি ব্যবসায়ী সিদ্দিক হোসেন জানান, গড়াই নদীর চরে জমির চারিদিক থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় প্রতিবছর জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। যেকারণে নিজেদের সংসার চালানোর তাগিদেই তারা মাটির ব্যবসা করছেন। তাদের দাবি, গড়াই চরটি খোকসা উপজেলাধীন। বালি উত্তোলনের সঙ্গে খোকসার ব্যবসায়ীরা বেশি জড়িত।
তবে খোকসার বেতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাবুল আক্তার জানান, সীমানাটি খোকসার হলেও নদীর ওপারে হওয়ার কারণে চরের প্রায় সকল সুযোগ সুবিধাই ভোগদখল করেন শৈলকুপার সারুটিয়া ইউনিয়নের মানুষ।
তিনি বলেন, এ চরকে ঘিরে অনেকবার খোকসা উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও অবস্থানগত এবং নানা আইনি জটিলতার জন্য বালিখেকোদের হাত থেকে নদী ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হয় না।
এবিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা উসমান গনি বলেন, ‘আমাদের অংশে কেউ গড়াই নদী থেকে বালি উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া খোকসা উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে যৌথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নদী পাড়ের ফসলি জমি ও শত শত বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আগেই অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটা বন্ধে এখনই প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন