স্বামীর হাত ধরে পালিয়েছি : স্কুলছাত্রীর ভিডিওবার্তা

আপডেট: 06:59:01 14/10/2018



img

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : শৈলকুপায় কথিত অপহৃত স্কুলছাত্রী ডরিন (১৬) ফেসবুকে একটি ভিডিওবার্তা ছেড়েছে। সেখানে সে দাবি করেছে, অপহৃত নয়, স্বামীর ঘর করছে সে।
বলেছে, ‘প্রেমের বিয়ে মেনে না নেওয়ায় বাবা-মা তাকে নির্যাতন করতো। সহ্য করতে না পেরে স্বামীর হাত ধরে পালিয়ে যাই।’
ডরিন (১৬) উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর গ্রামের আলমগীর হোসেন বাদশার মেয়ে। স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো সে। প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের ছেলে সাজনের (২৩) সঙ্গে তার প্রেমজ সম্পর্ক হয়। গ্রামের অনেকেই তাদের এই সম্পর্ক জানতেন।
ভিডিওবার্তায় ডরিন জানায়, গত ৫ আগস্ট তারা ঝিনাইদহে আদালতে হাজির হয়ে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বয়স সংশোধন করে বিয়ে করে। সাজনের সঙ্গে বিয়ের কথা বাড়িতে বলে দেয় ডরিন। এরপর থেকে শুরু হয় তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। এই নির্যাতনের কারণে গত ২১ আগস্ট মঙ্গলবার ঈদের আগের দিন সকালে নিজ বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে ডরিন তার স্বামীর সঙ্গে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
মেয়ে নিখোঁজের পর ডরিনের বাবা আলমগীর হোসেন বাদশা শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, পদ্মনগর গ্রামের প্রবাসী নজরুল ইসলাম মোল্যার ছেলে সাজন (২৩), চররূপদাহ গ্রামের মৃত আবদুল বারিক বিশ্বাসের ছেলে রান্নুসহ (৪৫) অজ্ঞাত আরো ২-৩ জন।
ভিডিওবার্তায় ডরিন বলেছে, সাজনের সঙ্গে সম্পর্ক না মেনে বাবা-মা তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সে সাজনের হাত ধরে পালিয়ে যায়। পরিবার যদি সাজনকে মেনে নেয়, তাহলে সে বাড়িতে ফিরে আসবে বলে জানায়।
এদিকে, গত ০৯ সেপ্টেম্বর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করে বয়স সংশোধন করে বিয়ে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সভায় মতামত আসে, এই জাতীয় বিয়ে গ্রহণযোগ্য না। দুই নোটারি পাবলিক বয়স সংশোধনের মাধ্যমে প্রকারান্তরে বাল্যবিয়েতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিমত দিয়ে সভা ওই দুই আইনজীবীকে সতর্ক করে দেন।