মৃত্যুর ১১০ দিন পর লাশ উঠিয়ে ময়নাতদন্ত

আপডেট: 10:36:43 23/09/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : জালাল মোল্লা নামে যশোরের একটি রড ফ্যাক্টরির ম্যানেজারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করেছে সিআইডি। তিন মাস ২০ দিন পর নিহতের লাশ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের উপস্থিতে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামে তার পারিবারিক কবরস্থান থেকে তোলা হয়।
স্বজনদের দাবি, জালালকে হত্যা করা হয়েছে। এই অভিযোগে লাশটি তুলে ময়নাতদন্তের জন্য এখন যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে।
জালাল মোল্লা যশোর শহরতলির সুজলপুরে আকবর আলীর রড ফ্যাক্টরিতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী গ্রামের মৃত সাহেব আলী মোল্লার ছেলে।
নিহতের ভগ্নিপতি জাহিদুল হক সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমার শ্যালক জালালের স্ত্রী মারুফা ইয়াসমিন পলির চরিত্র ভালো না। তিনি ফ্যাক্টরি মালিক আকবর আলীর জামাই নিপ্পনের সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন। জালাল মারা যাওয়ার তিন মাস আগে নিপ্পনের সঙ্গে পলি ভারতে বেড়াতে যান। এই নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। এছাড়া নিপ্পন এবং পলিকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা অবস্থায় ধরে ফেলেছিলেন জালাল। পথের কাঁটা দূর করতে ঘটনার দিন গত ৩ জুন দিনগত গভির রাতে জালালকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হলেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই ৪ জুন সকালে তড়িঘড়ি দাফন করা হয়।’
তবে জালালের স্ত্রী মারুফা ইয়াসমিন পলি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ‘পুরো মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন।
তিনি সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘গত ৩ জুন দিনগত গভির রাতে বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্টে আমার স্বামী মারা যান। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়নি। আমার স্বামীর অনেক সম্পত্তি আছে। সে গুলো আত্মসাৎ করতে আমার নামে কলঙ্ক রটানো হয়েছে।’
যশোর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুনর রশিদ সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘জালাল মোল্যার মৃত্যুর ব্যাপারে তার বড়ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে মামলা হত্যা করেন। মামলাটি গত ১৩ আগস্ট যশোর কোতয়ালী থানায় রেকর্ড করা হয় (নম্বর ৭৩/১৩.০৮.১৮)। গত ৩০ আগস্ট মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় আমার ওপর। এরপর আমি আদালতে নিহতের লাশ তুলে ময়নাতদন্তের অনুমতি চাই। আদালত অনুমতি দিলে আজ শনিবার দুপুরে শতখালী গ্রাম থেকে লাশ তুলে হাসপাতাল মর্গে এনেছি। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ ফেরত দেওয়া হবে আবার দাফনের জন্য।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও যশোরের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আরিফুর রহমান সুবর্ণভূমিকে বলেন, ‘আমার উপস্থিতিতে জালালের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশ আনা হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।’

আরও পড়ুন