শার্শায় ৬০ হাজারে রেহাই ধর্ষককে

আপডেট: 04:18:45 23/02/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শার পল্লীতে নয় বছর বয়সী শিশুকে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তা-ই নয়, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে ইব্রাহিম নামে ওই অভিযুক্তকে রেহাই দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
শিশুটির মা জানান, তার মেয়ে বুধবার বিকেলে বাড়িতে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী ইব্রাহিম তাকে নিজের গাছের বরই (কুল) খাওয়ানোর কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ইব্রাহিমের বাড়িতে আর কেউ ছিল না। এই সুযোগে ইব্রাহিম শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং ইব্রাহিমকে আটকে রাখে। পরে ‘উপযুক্ত বিচারের’ আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় মাতব্বরা ইব্রাহিমকে মুক্ত করে নিয়ে যান।
তিনি জানান, পরদিন বৃহস্পতিবার এলাকার ইউপি সদস্য নুর ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য বাটুল, খলিলসহ অনেকের লোকজনের উপস্থিতিতে বসা শালিসে ইব্রাহিমকে কান ধরে উঠ-বস করিয়ে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, লাম্পট্যের ইতিহাস রয়েছে ইব্রাহিমের। ইতিপূর্বে আরো তিন বার নারী ধর্ষণের অভিযোগে শালিশ-বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন তিনি।
যোগাযোগ করা হলে ঘটনা আংশিক স্বীকার করেন ইউপি সদস্য নুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘৬০ হাজার টাকা জরিমানার বিষয়টি সঠিক নয়। টাকা কি চাইলেই পাওয়া যায়? ভাই জানেন তো, ভিকটিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক। আমাদের তো ভোট লাগে। তাই ওদের পক্ষে যেয়ে মীমাংসার নামে কান ধরে ওঠ বস করে ছেড়ে দিয়েছি।’
গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই লুৎফর রহমান বলেন, ‘এখনো আমার কাছে কেউ এবিষয়ে অভিযোগ করেনি। ঘটনা মৌখিকভাবে জানার পর নুর ইসলাম মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমার কাছে অস্বীকার করেন।’
নিজামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।’
ইব্রাহিমের শাস্তি হওয়া উচিত বলেও মত দেন চেয়ারম্যান আজাদ।
এ ব্যাপারে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম মশিউর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। যদি এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আমি গোড়পাড়া পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলছি।’

আরও পড়ুন