শার্শায় ৫০ হাজার পরিবার ঈদসামগ্রী পেয়েছে

আপডেট: 08:17:28 15/06/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার দুঃস্থ অসহায় পরিবার ঈদ সামগ্রী পেয়েছেন।
শার্শার সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে দুস্থ অসহায়, ভিখারি, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মাঝে ঈদসামগ্রী তুলে দেওয়া হয় ।
সরকারিভাবে উপজেলার ৩০ হাজার ২৭ জন দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদের চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলককুমার মণ্ডল। তিনি বলেন, ৩১৯ জন ভিখারি ও ২৭৭ জন মুক্তিযোদ্ধার মাঝে শাড়ি, লুঙি, নগদ টাকা, সেমাই, চিনিসহ ঈদসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল ফিতরে যেন অসহায় মানুষ কষ্ট না পায়, সেজন্য ঈদে ভিজিএফের চাল সহায়তা দিয়ে থাকেন। সরকারি সহায়তার বাইরে ধণাঢ্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতারা উপজেলার গরিব-দুঃখী মানুষের হাতে ঈদসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন যাতে তারা আনন্দের সঙ্গে ঈদ উপভোগ করতে পারেন।’
বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, পৌরসভার চার হাজার ৬২০ জনের মাঝে দশ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
বাগআঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইলিয়াছ কবির বকুল বলেন, ইউনিয়নের তিন হাজার ২৭টি পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে দশ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে এক হাজার ৩০০ নারীকে শাড়ি, ৭০০ পুরুষকে লুঙি ও ৩৫০ জন দলীয় নেতাকর্মীকে পানজাবিসহ ঈদসামগ্রী দিয়েছেন বলে জানান চেয়ারম্যান বকুল।
বাগআঁচড়া ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোজাম গাজী বলেন, সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে ৩২০ পরিবারের মাঝে চাল শাড়ি-লুঙি দেওয়া হয়েছে।
উলাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আয়নাল হক তার ইউনিয়নে তিন হাজার ২৫৩টি পরিবার ও কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হাসান টিংকু দুই হাজার ৯৪০টি পরিবারের মাঝে দশ কেজি করে চাল বিতরণ করেছেন বলে জানান।
বাগআঁচড়ার টেংরা গ্রামের জমিলা বিবি (৬০)। যার দেখার কেউ নেই। অসহায় এই নারী চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নতুন শাড়ি ও সেমাই চিনি পেয়ে খুব খুশি। জমিলা বিবি বলেন, ‘ঈদে কবে নতুন শাড়ি পরিছি বলতি পারবো না, তবে এবার পরবো।’
একই গ্রামের মৃত বায়জিদ হোসেনের স্ত্রী তাছলিমা বিবি (৫৫) একজন বাস্তুহারা। পাঁচ বছর আগে স্বামী মারা গেছেন। রেখে যেতে পারেননি বাস করার কোনো জায়গা। পরের বাড়ি কাজ করে মাসে ৩০০ টাকা ভাড়া বাড়িতে থাকেন।
তছলিমা বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমার জীবনে ঈদ আসেনি। ঈদ আর সাধারণ দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। তবে এবার ঈদে সব পাইছি। শেখের বেটি আমাদের জন্যি এবার সব করেছে। আমরা খুব খুশি।’
মাঠপাড়ার ভ্যানচালক রুহুল আমিন ও তার স্ত্রী জামিরন নেছা খুকির (৫৫) জীবনে এবার ঈদটি নতুনভাবে এসেছে। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলে সন্তান না থাকায় দশ বছর তাদের জীবনে ঈদ আসেনি। খুকি বলেন, ‘এবার ঈদে শাড়ি-লুঙি পাইছি। সেমাই চিনি, চাল নগদ টাকা তাও পাইছি।’
জামতলার আব্দুর রহিমের (৬৫) সকল সুখ কেড়ে নিয়েছে ক্যানসার। ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কারণে নিজে কাজ করতে পারেন না। বউ হোটেলে কাজ করে যে টাকা পায় তাতে চলে সংসার। সরকার বয়স্ক ভাতা দেয়; তা দিয়ে ওষুধ কিনতে হয় বলে জানান রহিম । তবে এবার ঈদ বহুদিন পর তাদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুন