ত্যাগের ঈদ খুশির ঈদ

আপডেট: 01:54:45 22/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : আজ ঈদ। ত্যাগের ঈদ। খুশির ঈদ।
সকাল থেকে বাংলাদেশের ঘরে-ঘরে শুরু হচ্ছে ঈদের আয়োজন। ঈদের নামাজ শেষে সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরবানি হবে পশু। ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবাই এই আনন্দে শামিল হবে।
কোরআনে সুরা কাওসারের দুই নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,  ‘তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও পশু কুরবানি করো।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় বলা হয়েছে, ‘মনের পশুরে কর জবাই পশুরাও বাঁচে বাঁচে সবাই।’
ধর্মীয় ও ঐতিহ্য অনুসারে ঈদুল আজহা একটি বড় উৎসব— সারা দেশ একাত্ম হয়ে ওঠে মানুষে-মানুষে। জয়ী হয় মানবিকতা। আর ধর্মে রয়েছে বিস্তর তাৎপর্য। একমাত্র সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশেই পশু কুরবানি হতে হবে, তার সন্তুষ্টি অর্জনই হতে হবে একমাত্র লক্ষ্য।
পবিত্র ঈদকে কেন্দ্র করে শহর থেকে গ্রামে শিশু-কিশোর আর তরুণদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দময় পরিবেশ।
ধর্মীয় বিধানমতে, কুরবানির পশুর মাংস তিন ভাগে ভাগ করা উত্তম। একভাগ দরিদ্রদের, একভাগ যিনি কুরবানি দেবেন তার, আরেক ভাগ আত্মীয়-স্বজনদের জন্য বরাদ্দ করা ভালো। সর্বোপরি, কুরবানির মূল শিক্ষা হচ্ছে— আত্মত্যাগ।
ধর্মীয় গ্রন্থ মতে, প্রায় চার হাজার বছর আগে মুসলমানদের আদি পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হন সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানি করার। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) সবচেয়ে প্রিয় তার। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে আদরের ছেলে ইসমাইলকে কুরবানি করার উদ্যোগ নেন তিনি। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে একটি দুম্বা কুরবানি হয় ইসমাইলের বদলে।হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের মহিমা স্মরণে মুসলমানরা প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে তার পথে পশু কুরবানি করেন।
প্রবীণ আলেম শায়খুল হাদিস আল্লামা আশরাফ আলী বলেন, ‘কুরবানির উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এর বাইরে কিচ্ছু না। যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব না, তারাও যদি কুরবানি দেয়, তাদের উদ্দেশ্য থাকতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি।’
‘কুরবানির মাংস তিনভাগে ভাগ করে দেওয়া উত্তম। একভাগ নিজের রেখে, বাকি দুইভাগ আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া ভালো।’
মাওলানা আশরাফ আলী জানান, পশু কুরবানি ঈদের পরের দুই দিনও করার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে আগামী শুক্রবার আছরের ওয়াক্ত পর্যন্ত কুরবানি করা যাবে।
বিশ্বব্যাপী ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা ঈদুল আজহাকে অন্যতম প্রধান উৎসব হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাঙালিদের উদযাপন ভিন্ন। ইতিহাসের বিভিন্ন জায়গায় ঈদের বর্ণিল উদযাপনের তথ্য পাওয়া যায়।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘ঈদের একটি বিরাট সামাজিক গুরুত্ব আছে। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের সঙ্গে মানুষের মিলন, দাওয়াত গ্রহণ, বাড়িতে-বাড়িতে যাওয়া, ভালো-ভালো খাওয়া হয়।’
সামাজিক গুরুত্বের কথা বলতে গিয়ে ড. শামসুজ্জামান খানের ভাষ্য— ‘উৎসব হচ্ছে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্প্রীতির প্রধান অনুষঙ্গ। মানুষে-মানুষের মিলন তো শুভ এবং কল্যাণকর। কারণ, মানুষ মেলামেশা না করলে বিচ্ছিন্নতাবোধ হয়, এতে করে আশাহীনতা তৈরি হয়, বিষাদের সৃষ্টি হয়, নৈরাশ্যের সৃষ্টি হয়, কখনো কখনো মানুষ সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেজন্যই ঈদের দিনের মেলামেশা এক মানুষের সঙ্গে আরেক মানুষের হৃদ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।’