মৃত্যুর নয় বছর পর আসামি, একযুগ পর চার্জশিট

আপডেট: 03:21:59 13/10/2018



img

বিশেষ প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ : শাহ জামাল (৩২) মারা গেছেন ২০০৪ সালে। এর একযুগ পর তার নামেই পুলিশ একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে।
মৃত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তিনি অন্য আসামিদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে কালীগঞ্জ-জীবননগর সড়কের খালিশপুর নামক স্থানে নাশকতামূলক কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর ও একাধিক ব্যক্তিকে মারধরও করেন। বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে ওই স্থানে।
এটি ২০১৩ সালে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানায় রুজু করা একটি মামলা। যে মামলাটি এখনো বিচারাধীন। ওই মামলার বিচারকালে চার্জশিটভুক্ত আসামি শাহ জামালের বহু আগে মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
শাহ জামাল মহেশপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামের মৃত জহুরুল হক মণ্ডলের ছেলে। মামলা চলাকালে আসামি পক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি অবহিত হয়ে আদালত শাহ জামালের অবস্থান নিশ্চিত করতে মহেশপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশ পেয়ে পুলিশ তদন্ত করে এবং রির্পোট দেয় শাহ জামাল মারা গেছেন।
এদিকে মৃত ব্যক্তির নামে মামলা ও পরে অভিযোগপত্র দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাহ জামালের পরিবার। শাহ জামালের ভাই শাহ কামাল জানান, তারা ইতিমধ্যে পৌরসভা থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে পুলিশকে দিয়েছেন। পুলিশ তাদের জানিয়েছে, এ নিয়ে আর কিছু হবে না।
তিনি বলেন, পুলিশ যখন মামলা দায়েরের পর তার ভাইকে আটকের জন্য বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল, তখনই জানানো হয়েছিল, তার ভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। এরপরও তাকে ছাড়া হয়নি, তার নামে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
শাহ জামালের নামে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারে গোলমালের সৃষ্টি হয়। ওই দিন বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা সড়ক অবরোধের নামে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে। সেখানে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও একজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজনকে মারপিট করা হয়।
ওই ঘটনায় মহেশপুর থানার তৎকালীন এসআই মো. আকিনুর রহমান ১৯৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। যার নম্বর ১৫। তারিখ ২৭/১১/২০১৩। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামকে। যিনি পরে মারা যান। ওই মামলায় ১২৭ নম্বর আসামি করা হয় শাহ জামালকে।
মামলাটি দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেন মহেশপুর থানার তৎকালীন এসআই সৈয়দ আলী। পরে তিনি ওই থানা থেকে বদলি হয়ে গেলে তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মো. খবির হোসেন।
মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হওয়ার পর দুইজন কর্মকর্তা দীর্ঘ ১৮ মাস তদন্ত করেছেন। ১৯২ জনকে এজাহারে আসামি করা হলেও তদন্ত শেষে ২১৯ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এই মামলায় মোট ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে সন্দিগ্ধ হিসেবে আটক হন ২৪ জন।
মৃত্যুর পরও পুলিশের তদন্তে অভিযুক্ত শাহ জামালের ভাই শাহ কামাল জানান, তার ভাই ২০০৪ সালের ৮ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর নয় বছর পর তার নামে এই মামলার খবরে পরিবারটি হতবাক হয়ে পড়ে। এমনকি প্রথম দিকে দুই দফা পুলিশও তাদের বাড়িতে আসে।
মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী কাজী একরামুল আলম জানান, পুলিশের ওই তদন্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে আদালত গ্রহণ করেছেন। মামলার কার্যক্রম চলমান।
তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে পুলিশ কী তদন্ত করলো? মৃত্যু ব্যক্তিকে কীভাবে অভিযুক্ত করলো?’
তদন্তকারী ওই কর্মকর্তার আইনানুগ বিচার দাবি করেন আইনজীবী কাজী একরামুল আলম।
আর তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. খবির হোসেন জানান, মামলার প্রথম তদন্ত সৈয়দ আলী করেছেন। তিনি যখন দায়িত্ব পান, তখন তার ওপর চাপ ছিল দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার। যে কারণে ভুল হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন