শার্শা ফজিলাতুন্নেছা কলেজে বাড়তি টাকা আদায়

আপডেট: 08:20:39 18/07/2018



img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির উপবৃত্তির ফরম পূরণ নিয়ে অর্থবাণিজ্যে নেমেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। যদি কেউ নিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, অফিস ও যাতায়াত খরচের কথা বলে নাভারন ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির ২৯৭ জন ছাত্রীর কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ ৫০ টাকা ও অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলে ১০০ টাকা হারে মোট অর্ধ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মনির হোসেন লিটন এ বিষয়টি লিয়াজোঁ করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। প্রত্যেক ছাত্রীর উপবৃত্তির ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর বিধান থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তা মানছে না। মনির হোসেন লিটন নামে ওই শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করে প্রত্যেক ছাত্রীর ফরম পূরণের কথা বলে জনপ্রতি ১৫০ টাকা আদায় করেছে।
উপজেলার অন্য কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির ফরম পূরণ ও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য নির্ধারিত হারে অর্থ আদায় করেছেন। স্ব-স্ব কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক সরকারি বিধি উপেক্ষা করে দুর্নীতিবাজ এ সকল শিক্ষক তাদের অনৈতিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে
অভিভাবক রুহুল আমিন ও মনির হোসেন বলেন, তাদের সন্তান উপবৃত্তির আওতায় আসবে কি না তা তারা জানেন না। কিন্তু সব খাতওয়ারী এভাবেই টাকা গুণতে হয় তাদের। এসব যেন দেখার কেউ নেই। এদের হাত থেকে রেহাই পেতে চান বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, উপবৃত্তির ফরম পূরণ ও অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব। কোনো ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে খরচের কথা বলে একটি টাকাও নেওয়া যাবে না। যদি নিয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই তা আইনের পরিপন্থী।
এ ব্যাপারে উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক স ম সাইফুল আলম বলেন, ‘কোনো ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ নেওয়া যাবে না। এটাই এ প্রকল্পের সরকারি বিধান। অফিস খরচের কথা বলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজের সভাপতি পুলককুমার মণ্ডল বলেন, এ ব্যাপারে তার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন