নিমিষে কেমিক্যাল শনাক্ত করবে যে মেশিন

আপডেট: 04:04:10 09/09/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : মাত্র ৩০ সেকেন্ডে রাসায়নিক পরীক্ষা হবে। তাও প্রায় ১৩ হাজার তরল ও কঠিন পদার্থের। হাতে ধরা এক মেশিনে। বিশ্বের আইন শৃংখলা, গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা ও সচরাচর কেমিক্যাল শনাক্তকারী বৃহৎ সংস্থাগুলো ব্যবহার করে এটি। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি।
এবার এই মেশিনে ভারত থেকে আমদানি করা বিভিন্ন কেমিক্যাল পরীক্ষা হবে বেনাপোল কাস্টম হাউজে। এর ফলে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাঠানো কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দিনের পর দিন বসে থাকতে হবে না।
Progeny ResQ handheld Raman Spectrometer! মেশিনটি ভারতীয় বিজ্ঞানী শ্রীচন্দ্রশেখর রমণের উদ্ভাবন। এ মেশিনের এক্স-রে রেঞ্জের মধ্যে দেওয়া হলে পণ্যের জেনেরিক নাম ও গঠন বলে দেয়। মাদক উদ্ঘাটনে খুবই কার্যকর।
বিশ্ব কাস্টমস সংস্থা বিনামূল্যে তিনটি এমন যন্ত্র দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)। এই মেশিন তিনটি বেনাপোল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা কাস্টম হাউসে ব্যবহার করা হবে। বাকি শুল্ক ভবন ও স্টেশনে পর্যায়ক্রমে এটি বসানো হবে। কাস্টমস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন বন্দর ও শুল্ক স্টেশন দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল আমদানির বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে নতুন এ যন্ত্র সংযোজন করা হলো। এ ধরনের যন্ত্র সংযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকতার নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। এতে উপকৃত হবেন সৎ ব্যবসায়ীরা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি ডিভাইস হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিট বিভাগের কমিশনার ড. মইনুল খান।
ড. মইনুল খান জানান, রামান স্পেকট্রোমিটার ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেশনের সিকিউরিটি প্রজেক্ট বাংলাদেশ সরকারকে অনুদান হিসেবে দিয়েছে। এটি প্রায় ১২ হাজার কেমিকেলের নমুনা তাৎক্ষণিক (মাত্র ৩০ সেকেন্ড) এবং নিখুঁতভাবে রিপোর্ট প্রদান করতে সক্ষম। ফলে মিথ্যা ঘোষণায় নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল আমদানির প্রবণতা হ্রাস পাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কেমিকেলের নামে মাদক ও বিস্ফোরক দ্রব্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিট বিভাগের এই কর্মকর্তার মতে, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রিপোর্ট পেতে সময়ক্ষেপণসহ নানা হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সঠিকভাবে রিপোর্ট না পেলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি থেকে যায়। তাই রামান স্পেকটোমিটার যুক্ত হওয়ায় আধুনিক কাস্টমস গড়ার পথে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধিত হলো।
তিনি বলেন, এই যন্ত্র সংযোজনের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য আমদানি বন্ধের মাধ্যমে চোরাকারবারি নিয়ন্ত্রিত হবে। এছাড়া রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
পরে এনবিআর চেয়ারম্যান তিনটি বৃহৎ কাস্টম হাউসের কমিশনারদের হাতে এ মেশিন তুলে দেন। তিনি এর সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এ সময় সদস্য শুল্ক আধুনিকায়ন খন্দকার আমিনুর রহমান সবাইকে এ মেশিন ব্যবহারে সতর্কতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে দিকনির্দেশনাও দেন।
বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী জানান, তিনটি মেশিনের একটি বেনাপোল কাস্টম হাউস পেয়েছে। এর ফলে বেনাপোল কাস্টম হাউসে আরো একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। কেমিক্যাল নিয়ে লুকোচুরির দিন মনে হয় শেষ হয়ে এসেছে। সৎ ব্যবসায়ীরা হয়রানি থেকে মুক্তি পাবেন। অসত্য ঘোষণায় কেমিক্যাল আমদানির প্রবণতা প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন