স্কুলে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে 'সাংবাদিক' ধরা

আপডেট: 06:39:32 15/07/2018



img
img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : শিক্ষকদের দোষ-ত্রুটি ধরে চাঁদা দাবি করায় মণিরামপুরে ফজলুল হক নামের এক সাংবাদিক ও তার গাড়িচালককে ধরে পুলিশে দিয়েছেন জনতা। রোববার সকাল পৌনে দশটার দিকে থানা পুলিশ হাসপাতাল মোড়ের বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক স্কুল থেকে তাদের ধরে থানায় নিয়ে আসে।
এরআগে সকাল আটটার দিকে ওই স্কুলে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন ফজলুল হক। খবর পেয়ে মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ লিটন ও সম্পাদক মোতাহার হোসেন দুষ্টু সেখানে যান। পরে তাদের মধ্যস্থতায় পুলিশ মুচলেকা দিয়ে ওই দুইজনকে ছেড়ে দেয়।
ফজলুল হক খুলনার লবণচরা এলাকার সাম আলীর ছেলে। তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত 'সাপ্তাহিক অপরাধ তথ্যচিত্র' নামের একটি পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দাবি করেছেন।
ফজলুল হক গতবছর উপজেলার লাউড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টেংরামারী সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা হাতিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মণিরামপুর বাঁধাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা বানু সাংবাদিকদের বলেন, 'সকালে স্কুল শুরুর আগে সাদা একটি প্রাইভেট কারে (ঢাকা মেট্রো-গ-১২-৮৪০৩) চড়ে স্কুলে ঢোকেন ওই দুইজন। তারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আমাদের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি ধরে চাঁদা দাবি করেন। সন্দেহ হলে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানাই। সাংবাদিকরা আসার পর পুলিশ এসে ওদের ধরে নিয়ে যায়।'
মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ লিটন বলেন, 'দুইজন সাংবাদিক বাঁধাঘাটা স্কুলে ঢুকলে তাদের মতিগতি দেখে স্থানীয়রা মনে করে ভুয়া। তারা খবর দিলে আমরা সেখানে যাই। গিয়ে শুনি একজন একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদক, অন্যজন তার গাড়িচালক। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। পরে মুচলেকা নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।'
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, ফজলুল হক নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি মণিরামপুরে এভাবে আর আসবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন। পরে প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন