আধুনিক পদ্ধতিতে টমেটো চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়

আপডেট: 02:49:46 22/11/2017



img

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : জেলায় এবার আধুনিক পদ্ধতিতে শুরু হয়েছে শীতকালীন হাইব্রিড টমেটোর আবাদ।
বাঁশের খুঁটি আর নাইলন দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে এবার টমেটোক্ষেতে। এতে করে বাড়তি কিছু খরচ বাড়লে ও পরিচর্যা ও টমেটো তুলতে অনেক সুবিধা হবে এবং সেগুলো ভাল দামে বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে টমেটো গাছে ফুল আসা শুরু হয়েছে। অনেক গাছে গুটি গুটি টমেটোও ধরেছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার চুয়াডাঙ্গা জেলায় টমোটোর আবাদ হয়েছে ১০৪ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২০ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ৩০ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৪৪ হেক্টর ও জীবননগর উপজেলায় ১০হেক্টর জমিতে।
টমেটো আবাদকারী দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গ্রামের রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে আব্দুল হান্নান জানান, প্রতিবছর তিনি এই টমেটোর আবাদ করে থাকে, চলতি বছরে সে ঢাকা থেকে এই চাষের উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। তিনি এবার ২৫ কাঠা জমিতে হাইব্রিড জাতের টমেটোর আবাদ করেছে। প্রশিক্ষণ মত পরিচর্যা করছে। গাছ ভালো ও গাছে ফুল আসার সময় হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে ফুল দেখা যাবে। এখন তিনি টমেটো গাছের সঙ্গে বাঁশের কাবারি মাটিতে পুঁতে নাইলন দড়ি দিয়ে মাচা তৈরি করছেন। এতে তার ক্ষেতের গাছ খাড়া হয়ে থাকবে গাছের পরিচর্যা করা সুবিধা হবে যথেষ্ট আলো বাতাস পাবে। এতে করে ফলন বাড়বে। ফল মাটিতে ঠেকবে না এতে টমেটোর রঙ ভাল হবে। এ পর্যন্ত  তার খরচ হয়েছে ১২ হাজার টাকার মত। আর টমেটো ক্ষেত থেকে তোলা পর্যন্ত আরো থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। সর্বমোট তার ২০ থেকে ২২হাজার টাকা খরচ হবে। ফলন ভাল এবং ভাল বাজার দর পেলে তিনি ২৫ কাঠা জমিতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন।
একই কথা বললেন দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা গ্রামের ঠান্ডু খানের ছেলে হাফিজুর রহমান, তিনি ১০ কাঠা জমিতে হাইব্রিড জাতের টমেটো আবাদ করেছে। ১০ কাঠা জমিতে তার তেল, সার, বীজ, বাঁশ, দঁড়ি দিয়ে খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকার মতো। টমেটোক্ষেত থেকে তোলা পর্যন্ত আরো ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। কোনো দুর্যোগ না হলে ফলন ভালো হলে ৩০ হাজার টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন তিনি। 
চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রবীর কুমার সরকার জানান, হাইব্রিড জাতের টমেটো গাছ সাধারণত বড় হয় ও চারিদিকে ছিটিয়ে যায়। বাঁশের খুঁটি ও দড়ি দিয়ে মাঁচা করে দিলে খরচ একটু বাড়লেও সারি করে লাগানো গাছের মাঝখানে ফাঁকা থাকে। এতে করে গাছের পরিচর্যা করা যেমন সুবিধা হয়, তেমনি গাছে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পায়। ফলে পোকার আক্রমণ কম হয়। মাটির সঙ্গে ফল স্পর্শ করে না; তাই ফল পচনও ধরে না। ফুল ও ফল নষ্ট হয় না। এতে করে ফলনও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন