ললিতার ছাদবাগান

আপডেট: 03:14:40 22/10/2018



img

এস এম আলাউদ্দিন সোহাগ, পাইকগাছা (খুলনা) : পাইকগাছায় ছাদে বাগান করে সফল হয়েছেন শিক্ষক ললিতা নাথ। তিনি নিজ বসতবাড়ির দ্বিতল ভবনের ছাদে বিভিন্ন প্রকারের ফল ও ওষধি গাছ এবং সবজি ও ফুলের চাষ করেছেন।
তার সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই ছাদবাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষক ললিতা পাইকগাছা পৌর সদরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। স্বামী বিদ্যুৎরঞ্জন সাহা উপজেলা শিক্ষা অফিসার। কর্মসূত্রে তিনি বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন।
শিক্ষক ললিতার বাগান করার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। আগে বাড়ির আঙিনা কিংবা আশপাশে যেখানে জায়গা পেতেন, সেখানেই বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপণ করতেন। প্রায় চার বছর আগে শহরের বাতিখালী এলাকায় ললিতা তার পরিবারকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বসতবাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে তেমন জায়গা নেই। কিন্তু থেমে যাননি তিনি। বিকল্প হিসেবে ছাদে বাগান সৃজন করেন। দোতলা বাড়ির ছাদে এখন তার বিশাল বাগান।
বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের কোথাও তিনি লাগিয়েছেন কমলা, মাল্টা, আপেল, কদবেল, বেদানা, লিচু, আমলকি, কাগজি লেবু, চায়না লেবুসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ। কোথাও লাগিয়েছেন পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, করলা, শসা, কাঁকুড়, কয়েক প্রজাতির মরিচসহ নানা ধরনের সবজি। আবার কোথাও লাগিয়েছেন দোপাটি, রঙ্গন, জুঁই, হাসনাহেনা, গোলাপ, জবা, গাঁদা, রজনীগন্ধা, নীল অপারজিতাসহ বিভিন্ন ফুলের গাছ। ছাদের কোনো অংশে আবার লাগিয়েছেন পাথরকুঁচি, কালমেঘা, তুলসীসহ বিভিন্ন ধরনের ওষধি গাছ। সবজি, ফল আর ফুলে ভরে গেছে ছাদ। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি ছাদ, নাকি ফসলের মাঠ।
ললিতা কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ও সার ব্যবহার করেন না।  উঁচুতে হওয়ায় পোকা-মাকড়ের উপদ্রব নেই। আর গাছ সতেজ করতে ব্যবহার করছেন জৈব সার। ছাদে উৎপাদিত সবজি ও ফল তার পরিবারের চাহিদা পূরণ করে। বাড়তিটা আত্মীয়-স্বজনদের দেন উপহার হিসেবে। কখনো কখনো বিক্রিও করেন।
ছাদবাগান করার কারণে ললিতার অন্য কাজ কিন্তু ব্যাহত হচ্ছে না। শিক্ষকতা করছেন সুনামের সঙ্গে। রান্নাসহ বাড়ির কাজকর্ম করছেন ঠিকই। স্কুলপড়ুয়া দুই মেয়ের পরিচর্যায়ও অবহেলা নেই।
প্রশ্নের জবাবে ললিতা নাথ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই বাগান করা আমার শখ। আমার বাসার সাথে তেমন ফসলি জায়গা না থাকায় ছাদে বাগান করা শুরু করি। প্রতিদিন ভোর পাঁচটার দিকে এবং স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে এক-দেড় ঘণ্টা করে বাগান পরিচর্যার কাজ করি। গত ৩-৪ বছরে ছাদ ভরে গেছে সবজি ও ফল-মূলে। লোকজন যখন আমার বাগান দেখতে আসে। খুবই ভালো লাগে।’
ভবিষ্যতে বাড়ির সামনে বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন ললিতা।
শিক্ষক ললিতা নাথের ছাদবাগান দেখে এলাকার অনেকেই তাকে অনুসরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানালেন উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম।