নবজাতক গায়েবের তদন্তই শুরু হয়নি, আরেক কমিটি গঠন

আপডেট: 09:26:36 17/08/2018



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে গায়েব হওয়া সেই নবজাতকের (ছেলে) খোঁজ মেলেনি। প্রথম দফায় তদন্ত টিম গঠন হওয়ার তিনদিন পার হলেও তদন্ত কমিটি এখনো নবজাতকের কোনো খোঁজ পাননি। টিম এই ব্যাপারে এখনো কাজই শুরুই করেনি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের উচ্চতর তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের প্রধান করা হয়েছে যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন হারুন-অর-রশিদকে। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য এই টিম সময় পাবে তিনদিন।
আগামী রোববার হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে তদন্ত টিম মণিরামপুর হাসপাতালে আসবেন। সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় এবং প্রথম দফায় গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ডা. রাজিবকুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, নবজাতক গায়েব করার অভিযোগে অভিযুক্ত নার্স হ্যাপির বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য। অভিযোগ করা হচ্ছে, অবৈধভাবে গর্ভধারণ করা অনেক নারী গোপনে গর্ভপাত ঘটাতে মণিরামপুর হাসপাতালে আসেন। যাদের গর্ভপাত ঘটান এই নার্স হ্যাপি। গর্ভপাত ঘটানোর পর যেসব সন্তান জীবিত থাকে তাদের হাসপাতালের আরেক নার্স ঝরনা বিশ্বাস, আয়া কাকলী ও পূর্ণিমার মাধ্যমে বিভিন্ন নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেন নার্স হ্যাপি। যেখানে মক্কেল সংগ্রহের কাজ করেন নার্স ঝরনা।
অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ পথে আয় করা টাকা নিয়ে নিজেকে রক্ষার মিশনে নেমেছেন হ্যাপি। তদন্ত কমিটিসহ উচ্চ মহলকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টায় দৌড়ঝাপ করছেন তিনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নার্স হ্যাপি রায় বলেন, ‘আমি কখনো এসব কাজ করি না। কাউকে টাকাও দিচ্ছি না।’
গায়েব হওয়া শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে হ্যাপি বলেন, ‘বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে শুনেছি, ওই নারীর বাড়ি জয়পুরে। তার বয়স ৩৫। আর নারীর স্বামীর বাড়ি যশোরে।’
হাসপাতাল থেকে শিশু গায়েব হওয়ার ঘটনায় প্রথম দফায় গঠিত তদন্ত টিমের প্রধান ডা. রাজিবকুমার পাল বলেন, ‘সত্য কথা বলতে কি, আমি এখনো তদন্ত শুরু করিনি। এই বিষয়ে সিভিল সার্জন স্যারও একটি টিম গঠন করেছেন। টিম আগামী রোববার হাসপাতালে আসবে।’
উচ্চতর টিম গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় বলেন, ‘ডেপুটি সিভিল সার্জন হারুন-অর-রশিদকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে টিম প্রতিবেদন জমা দেবে। দুই গ্রুপের তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।’
গত মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালের ডেলিভারি কক্ষে একটি নবজাতক রেখে পালিয়ে যান গর্ভধারিণী। বিষয়টি জানাজানি হলে সেই রাতে হাসপাতালের নার্স হ্যাপি রায় ও ঝরনা বিশ্বাস নবজাতকটি গায়েব করে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় বুধবার (১৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আব্দুল গফ্ফার তিন সদস্যের তদন্ত টিমটি গঠন করেন। যাদের এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নার্স হ্যাপি রায় ও ঝরনা বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন