সভাপতি পেটালেন পাঁচ শিক্ষককে, রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

আপডেট: 02:37:43 24/04/2018



img
img

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : শৈলকুপার হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেনের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন ও পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে হাটফাজিলপুর বাজার অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সভাপতির ক্যাডার বাহিনী হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
লাঞ্ছনার শিকাররা হলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপানন্দকুমার মণ্ডল, সহকারী শিক্ষক শ্যামল বিশ্বাস, আজিজুল ইসলাম, উত্তমকুমার অধিকারী এবং আবুল বাশার। অভিযোগ, লাঞ্ছিত শিক্ষকদের নিজ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির তোফাজ্জেল হোসেনের ক্যাডাররা। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের আয়া রাশিদাকেও এই সভাপতি লাঞ্ছিত করেন।
তোফাজ্জেল হোসেন বছর দেড়েক হলো হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই দায়িত্বে অবহেলা, বিদ্যালয়ের অর্থলোপাট, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদারচণসহ নানা অভিযোগ উঠতে থাকে তার বিরুদ্ধে।
লাঞ্ছিত শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার দুপুরে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন স্কুলে আসেন। এরপর মিটিংয়ের কথা বলে প্রধান শিক্ষকের অফিস রুমে সব শিক্ষককে ডেকে পাঠান। সভাপতি অন্যান্য দিনের মতো শিক্ষকদের কাছে হাত খরচের টাকা দাবি করেন। কিন্তু টাকার পরিমাণ বেশি হওয়ায় শিক্ষকরা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন রেগে গিয়ে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের চড়-থাপ্পড়, লাথি-ঘুষি ও ঘাড়ধাক্কা দেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। এসময় তিনি কোমর থেকে ছুরি বের করে শিক্ষকদের হত্যার হুমকি দেন। ঘটনার বিষয়ে মুখ না খুলতে হুঁশিয়ারও করে দেন। সেসময় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা ভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন।
এর পর সভাপতি জোর করে প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে একটি বøাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরে জনতা ব্যাংক হাটফাজিলপুর বাজার শাখা থেকে বিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জেনে টাকার অংক বসিয়ে তা উত্তোলন করেছেন। তবে টাকার পরিমাণ ৩০ হাজার, না ১৮ হাজার সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেননি শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক উপানন্দকুমার মণ্ডলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ভয়ে মুখ খোলেননি। কাতর কণ্ঠে বলেন, ‘শিক্ষক ও আশপাশের লোকের কাছে শোনেন, সব জানতে পারবেন। যদি আমি ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলি তাহলে বোঝেনই তো, হিন্দু মানুষ বলে কথা!’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক বলেন, ‘তোফাজ্জেল হোসেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষকদের জিম্মি করে টাকা লোপাট করে চলেছেন। তিনি বেশিরভাগ সময় নেশাগ্রস্ত হয়ে কোমরে ছুরি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না।’
তবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষকরাই সব টাকা-পয়সা খেয়ে ফেলে। ঠিকমতো ক্লাস করায় না। তাই শিক্ষকদের একটু বকাঝকা ও শাসন করেছি।’
এদিকে, শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে ক্লাস বর্জন, অনশন ধর্মঘট, মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ লাগাতার নানা কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
হাটফাজিলপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই খাইরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল থেকেই স্কুলের আশপাশে পুলিশ অবস্থান করছে।
শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উসমান গনি জানান, ঘটনাটি তিনি লোকমুখে শুনেছেন, লাঞ্ছিত শিক্ষকরা তাকে জানায়নি। শিক্ষক লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনা খুবই লজ্জাজনক। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।