নড়াইলে শিক্ষা সপ্তাহের ‘দায়সারা’ প্রতিযোগিতা

আপডেট: 01:45:02 22/01/2018



img

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা দায়সারাভাবে পালিত হচ্ছে। সম্প্রতি এসব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও জেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ প্রতিযোগিতা সম্পর্কে অবগত ছিল না। আবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠান তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ বাস্তবায়নের জন্য গত ৮ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকার পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. মো. আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক চিঠি আসে। চিঠিতে কলেজ, মাধ্যমিক স্কুল, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদরাসায় চারটি বিভাগে জাতীয় সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা (হামদ ও নাত, কেরাত, রচনা, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক, জারি, দেশাত্মবোধক গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি, লোক ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, লোকনৃত্য, উচ্চাঙ্গ নৃত্য এবং অভিনয়) বাস্তবায়নের কথা বলা হয়।
এছাড়া চিঠিতে যোগ্য, মেধাবী ও শিক্ষা ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শ্রেণি-শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ স্কাউট, স্কাউট গ্রুপ ও স্কাউট শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড, গার্ল গ্রুপ ও গার্ল গাইড শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ রোভার, রোভার গ্রæপ ও রোভার শিক্ষক, শ্রেষ্ঠ রেঞ্জার, রেঞ্জার গ্রুপ ও রেঞ্জার শিক্ষক এবং শ্রেষ্ঠ বিএনসিসি, বিএনসিসি গ্রুপ ও বিএনসিসি শিক্ষক নির্বাচন করে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে বিভাগীয় এবং বিভাগীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানোর কথা বলা হয়।
চিঠিতে ১১ থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে, ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত উপজেলা এবং ২৩ জানুয়ারি জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানকে সফল করতে নড়াইল শিক্ষা অফিসকে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সময়মতো এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারেনি। আবার উপজেলা পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ৩৩টি ইভেন্টে লোহাগড়া উপজেলায় ৫৪টি মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার মধ্যে ১৫টি, সদর উপজেলায় ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৮টি এবং কালিয়া উপজেলায় ৪৫টির মধ্যে ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সাত থেকে আটটি ইভেন্টে অংশ নেয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) নড়াইল পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সদর উপজেলা পর্যায়ের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও জেলার সবচেয়ে নামকরা স্কুল বলে পরিচিত নড়াইল সরকারি বালক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ অনুষ্ঠানের কথা জানে না।
শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) কালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিয়া উপজেলার এক কলেজ প্রভাষক বলেন, ‘সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট ত্রুটি ছিল।’
একই উপজেলার অন্য এক কলেজের প্রভাষক বলেন, ‘সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিষয় ছাড়া অন্য বিষয়ে প্রতিযোগিতার বিষয় আমার জানা ছিল না।’
লোহাগড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি নেই। তবে গ্রামের স্কুল থেকে কম অংশগ্রহণ করে। এসব প্রতিষ্ঠানে উপযোগী প্রতিযোগী না থাকা এর প্রধান কারণ হতে পারে।’
কালিয়া উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার শরাফত হোসেন বলেন, ‘মিটিং করে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ বাস্তবায়নের জন্য সব স্কুলকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি থাকতে পারে।’
সদর উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাজাদী বেগম বলেন, ‘১৮ জানুয়ারি সহপাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দূরের প্রতিষ্ঠান হয়তো কম আসে। তবে অনুষ্ঠান আয়োজনে কোনো গাফিলতি ছিল না। সব প্রতিষ্ঠানেই ইন্টারনেট ব্যবস্থা আছে। সবারই জানার কথা।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ বলেন, ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের বিষয়টি জানতাম। গতবার অংশগ্রহণ করেছিলাম। এবার অনেকটা নিজেদের গাফিলতির কারণে অংশগ্রহণ করা হয়নি।’
জেলা শিক্ষা অফিসার তপনকুমার বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠান জেলা শিক্ষা অফিসারকে কখনো জানানো হয়, কখনো জানানো হয় না। তাছাড়া উপজেলা পর্যায়ে যদি কোনো অবহেলা হয় তাহলে এ দায়ভার উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। সুষ্ঠুভাবে এসব অনুষ্ঠান হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে আমাদের তদারকির কিছু আছে বলে আমার জানা নেই।’
জেলা পর্যায়ের সাবেক অফিসার ও প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব দিলারা বেগম বলেন, ‘আমার সময় এসব প্রতিযোগিতা সঠিকভাবেই হতো। বর্তমান সম্পর্কে আমি অবগত নই। তবে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ যদি জোড়াতালি দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই সহ-শিক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে তা সফল হবে না।’

আরও পড়ুন