চৌগাছা ইউএনওর নম্বর ক্লোন করে প্রতারণা

আপডেট: 09:50:12 13/10/2018



img

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : চৌগাছার ইউএনও মারুফুল আলমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর ক্লোন করে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে ফোন করে ল্যাপটপ প্রদানের নামে টাকা দাবি করা হচ্ছে।
ইউএনও মারুফুল আলম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, পুলিশ প্রশাসনসহ উপজেলার সব কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসএমএস করে বিষয়টি জানিয়েছেন। কয়েকজনকে সাক্ষাতেও বলেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে ০১৭২২৬০৫৯৭৮ নম্বর মোবাইল থেকে একটি কল আসে চৌগাছা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদের কাছে। নম্বরটি থেকে ফোন করে চৌগাছার ইউএনও মারুফুল আলম পরিচয় দিয়ে বলা হয়, ‘আপনার স্কুলে একটি কোর আই ফোরের ল্যাপটপ প্রদান করা হবে। যার দাম ৫৬ হাজার টাকা। এটি আপনি নেবেন কিনা?’
‘এটি তো ইউএনও স্যারের নম্বর নয়। তার নম্বর তো আমার কাছে সেভ করা আছে’- বললে প্রতিউত্তরে বলা হয়, ‘ঠিক আছে। ওই নম্বর থেকে কল করছি’- বলে ইউএনওর ব্যক্তিগত ০১৭১৭৪০৬৭০৩ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলা হয়, ‘আমিই কথা বলছি। এই নম্বর থেকে কথা ভালো বোঝা যাচ্ছে না। আপনি ওই নম্বরে কল দেন।’
এরপর ০১৭২২৬০৫৯৭৮ নম্বরে কল দিলে তাকে একই প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি সেটা নিতে রাজি হলে বলা হয় খরচ-খরচা বাবদ সাত হাজার টাকা দিতে হবে। তখন কামাল আহমেদ বলেন, ‘আপনার অফিসে আসছি।’
ওপাশ থেকে বলা হয়, অফিস নয় বাসা থেকে দেয়া হবে। আজতো শুক্রবার, কখন সেটি নিতে হবে জানতে চাইলে বলা হয়, ‘আপনি কখন নিতে পারবেন?’ তখন কামাল আহমেদ বলেন, সন্ধ্যা সাতটায়।
অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘ঠিক আছে। সেই সময়ে ফোন দেবেন।’
ফোন রেখে বিষয়টি কামাল আহমেদ চৌগাছা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেনকে জানান। তখন শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে অন্যান্য প্রধান শিক্ষকদের কাছে বিষয়টি যে ভুয়া, তা জানিয়ে দিতে বলেন।
এরই মধ্যে নম্বরটি থেকে চৌগাছা হাজী সর্দার মর্ত্তুজ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিনগর শহীদ স্মরণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান আলীসহ আরো কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে ফোন করে একই দাবি জানানো হয়। পরে সন্ধ্যা সাতটায় প্রধান শিক্ষক কামাল আহমেদ প্রতারকদের ওই নম্বরে ফোন করে বলেন, ‘ইউএনও সাহেবের নম্বর তো এটা? আমাকে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা ছিল।’ তখন নম্বরটি থেকে ‘পরে আপনাকে ফোন দিচ্ছি’ বলে কেটে দেওয়া হয়।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শনিবার বলেন, ‘উপজেলার সকল প্রধান শিক্ষককে এসএমএস করে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ উপজেলার সব কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। কয়েকজন প্রধান শিক্ষককে সাক্ষাতেও বলেছি।’
তিনি বলেন, ক্লোন করে মাত্র ৩০ সেকেন্ড কথা বলা যায়। ওই কথাও স্পষ্টভাবে শোনা যায় না। প্রতারণার বিষয়টি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একইভাবে প্রতারক চক্র মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ফোন করে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করে।

আরও পড়ুন