বৃষ্টি-কাদায় মাখামাখি খুলনার ঈদবাজার

আপডেট: 01:54:06 12/06/2018



img
img

খুলনা অফিস : সাগরে লঘুচাপের ফলে খুলনায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়েছে ঈদ মার্কেটে। মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের তেমন উপস্থিতি নেই। আবার কেনাকাটায় আসা লোকজন পড়ছেন বেকায়দায়।
তীব্র গরমে অতিষ্ট মানুষকে স্বস্তি এনে দিলেও বৃষ্টি ঈদের বাজারে ভোগান্তিও এনেছে। সোমবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনায় ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। তাদের মতে, বৃষ্টি চলবে আরো দুই দিন। ফলে বৃষ্টির কবলে ভালোমতোই পড়েছে ঈদ বাজার।
সোমবার সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ায় বিঘিœত হচ্ছে ঈদের কেনাকাটা। বৃষ্টিতে নগরীর রয়্যালের মোড়, শান্তিধাম মোড়, শামসুর রহমান রোড, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, বাইতিপাড়াসহ অধিকাংশ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় ইচ্ছা করলেও সহজে যাতায়াত করতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। বৃষ্টির কারণে অনেকটাই বেকার সময় কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বৃষ্টিতে কেনাবেচা একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন ফুটপাতের বিক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে কাদায় সয়লাব হয়ে গেছে মহানগরীর অধিকাংশ সড়ক ও মার্কেট। যে কারণে ক্রেতাদের ভোগান্তিও বেড়ে গেছে অনেক। অনেকেই ঈদবাজারে ঢুকে আটকা পড়ছেন। যেতে পারছেন না এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে। যানবাহন সঙ্কটে অনেকেই আবার আসতে পারছেন না বাজারে। পছন্দ করতে পারছেন না নিজের কাপড়-চোপড়। বৃষ্টি আর কাদার কারণে ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন বেকায়দায়। ক্রেতা না থাকায় দোকানিরা অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। তবে অর্ধ বেলা পর্যন্ত দোকান বন্ধ রেখেছেন ফুটপাতের দোকানীরা।
মহানগরীর জলিল সুপার মার্কেটের আদ্রিত বস্ত্রালয়ের প্রোপ্রাইটার অমলেশ সাহা বলেন, ‘ব্যবসা অনেক খারাপ যাচ্ছে। টানা তিন দিন মার্কেটে বিদ্যুৎ ছিল না। তারপর আবার বৃষ্টি। যে কারণে তেমন বিক্রি নেই।’
‘পালকি শাড়ি হাউজের’ মালিক অহিদ উল্লাহ হাওলাদার বলেন, বৃষ্টির কারণে হঠাৎ করেই শহরের বিপণি বিতানগুলোতে বিক্রি কমে গেছে। সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
ঈদবাজারে আসা কবির হোসেন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘ঈদ করতে গ্রামে যাবো। কয়েকটা দিনই হাতে আছে, বাড়ির সবার জন্য তো কেনাকাটা করতে হবে। পরে সময় হবে না, তাই বৃষ্টিতেই আসতে হলো।’
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, সোমবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনায় ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত ও নৌবন্দরগুলোকে দুই নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। থেমে থেমে আরো বৃষ্টি হবে। যা দুই তিন দিন থাকতে পারে।