নবজাতক গায়েব, আলোর মুখ দেখেনি প্রতিবেদন

আপডেট: 09:00:33 27/08/2018



img

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতক উধাও হওয়ার ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যশোরের সিভিল সার্জনের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের টিমের তদন্তকার্য সম্পন্নের আটদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।
সন্ধান মেলেনি নবজাতকটিরও। শিশুটি জীবিত না মৃত, জানা যায়নি তা-ও। ফলে বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপকুমার রায় তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম গঠন করে দেন। টিমকে তদন্ত রিপোর্ট তিন দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হারুন-আর-রশিদকে প্রধান করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শাহিন এবং অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র গাইনি কনসালটেন্ট ডা. নার্গিস আকতারকে নিয়ে তদন্ত টিম গঠন করা হয়। গত ১৯ আগস্ট টিম তাদের তদন্তকাজ সম্পন্ন করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল গফ্ফারের কক্ষে ওইদিন সকাল দশটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী চলে তদন্ত কাজ। তদন্ত টিম হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিবকুমার পাল, সিনিয়র স্টাফ নার্স হ্যাপি রায়, ঝরনা বিশ্বাস, নার্স নাজমুন নাহার নাজমা, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সালমা খাতুন, আয়া পূর্ণিমারানি, কাকলিরানি, রওশনারা খাতুন, প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা ওয়ার্ডের রোগী সালেহা বেগমসহ মোট ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ১২ জনের জবানবন্দি মৌখিক এবং লিখিত আকারে নেওয়া হয়। এ ছাড়াও নবজাতক চুরির দৃশ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ভিডিও ফুটেজও তদন্ত টিম সংগ্রহ করে। তদন্ত টিমের কাছে হ্যাপি রায় গোপনে নবজাতককে তার মায়ের কোলে তুলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। কিন্তু তিনি নবজাতকটির মা-বাবার পরিচয় দিতে পারেননি তিনি।
এদিকে, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন সিভিল সার্জন বরাবর দাখিল করার নির্দেশনা থাকলেও আজ পর্যন্ত সে প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। ফলে জনমনে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. দিলীপকুমার রায় বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি। তদন্ত কমিটির একজনের স্বাক্ষর বাকি আছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮.৮.১৮) প্রতিবেদন হাতে পাব বলে আশা করছি।’
গত ১৪ আগস্ট এক নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেলিভারি কক্ষে জীবিত নবজাতক (ছেলে) প্রসব করে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। ওইদিন রাতে সিনিয়র স্টাফ নার্স হ্যাপি রায় এবং ঝরনা বিশ্বাস, আয়া পূর্ণিমারানি ওয়ার্ড থেকে নবজাতকটি গায়েব করেন। এই অপকর্ম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
এই ঘটনায় সুবর্ণভূমিসহ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। পরের যশোরের সিভিল সার্জন তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেন।

আরও পড়ুন