‘গ্রিন এবং ক্লিন’ সিটি গড়তে চান মঞ্জু

আপডেট: 02:17:40 26/04/2018



img

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ‘গ্রিন এবং ক্লিন’ খুলনা সিটি গড়ার প্রত্যয়ে ১৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার  বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন। এ ইশতেহারের এক নম্বরেই মহানগরে ‘নাগরিক শাসন’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের বিষয়টি রাখা হয়েছে।
ইশতেহারের অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- নাগরিক পরিকল্পনার প্রবর্তন, নাগরিক মর্যাদা ও সম্মান সংরক্ষণ এবং গুণীজন সম্মাননা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহনশীল শহর হিসেবে গড়ে তোলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিশু-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সহায়ক পরিকল্পনা, মাদকবিরোধী খুলনা গড়ার অঙ্গীকার, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা প্রদান, নগরবাসীর স্বাস্থ্য উন্নয়ন, মহানগরীর পার্ক, উদ্যান ও বৃক্ষ সংরক্ষণ, ক্রীড়া বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ সৃষ্টি, ভেজালমুক্ত বিশুদ্ধ খাদ্য সরবরাহ, মহানগরীর সড়ক উন্নয়ন ও বর্জ্য-বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, খালিশপুর শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবনের পদক্ষেপ, শিল্প ও কলকারখানা স্থাপনে সহযোগিতা দান, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়ন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় ভূমিকা পালন এবং হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি না করে নতুন হোল্ডিং প্রাপ্তি সহজীকরণ, রিকশা, অটো রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান সহজতরকরণ, ক্ষুদ্র যানবাহনের লাইসেন্স প্রাপ্তির অজুহাতে টোকেন বাণিজ্যের নামে অবৈধ ব্যবসা রোধ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ওয়াইফাই তথা ইন্টারনেট ব্যবহার, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ফ্রি-ল্যান্সিং সেন্টার স্থাপন, সিটি করপোরেশনের আয়ের উৎস বৃদ্ধির লক্ষে নতুন মার্কেট নির্মাণ, খুলনার শিল্প বিকাশের স্বার্থে পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ পেতে ভূমিকা পালন, কেসিসির প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানো, শ্রমিক-কর্মচারীদের ৯০ মাসের গ্রাচ্যুইটি ফান্ড গঠন, হকার, ক্ষুদ্র যানবাহন শ্রমিকসহ সকল পর্যায়ের শ্রমিকদের পাশে থাকা, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূলদের পুনর্বাসনের উদ্যোগসহ নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবিধ প্রসঙ্গে তিনি ইশতেহারে আরো ১৮টি উপ-দফাও ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে ইশতেহারে চত্বরসহ সুদৃশ্য শহীদ মিনার, নতুন আঙ্গিকে শহীদ হাদিস পার্ক, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত সুসজ্জিত নগর ভবন, বায়তুন-নুর জামে মসজিদ কমপ্লেক্স, খুলনা কলেজিয়েট গালর্স স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজ, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল, দৌলতপুর কলেজিয়েট স্কুল, নির্মাণাধীন খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুল, ময়ূর নদীর পাড়ে লিনিয়ার পার্ক, ভৈরব নদীর পাড়ে রুজভেল্ট জেটি-সংলগ্ন ওপেন স্পেস, জাতিসংঘ পার্ক, খালিশপুর ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ও ঈদগাহ, নিরালা পার্ক, রূপসা ব্রিজ থেকে আলুতলা দশ গেট পর্যন্ত রাস্তা, ফুটপাত ও ওপেন স্পেস, গোয়ালখালি যশোর রোড থেকে মুজগুন্নি মহাসড়ক পর্যন্ত ডিভাইডার ও ফুটপাতসহ রাস্তা নির্মাণ, রূপসা বাসটারমিনাল, শহরজুড়ে স্বাস্থ্যসম্মত পাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, নগর ভবনে সুশাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অন স্টপ সার্ভিস চালুকরণসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বিভাগকে অটোমেশনের আওতায়  আনা, ওয়াসা আসার পূর্বে গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, শহরের পুরনো জরাজীর্ণ রাস্তা ও ফুটপাত সংস্কার ও আধুনিকায়ন, আধুনিক সড়কবাতি, ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৫টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস ও সংলগ্ন কমিউনিটি সেন্টার, তালতলা হাসপাতাল, খালিশপুরে শ্রমিকদের জন্য লাল হাসপাতাল, ২৭টি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নির্মাণ, শহরের সৌন্দর্যবর্ধনকল্পে বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চিত্তাকর্ষক আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম নির্মাণ, দুর্গম ও অনুন্নত এলাকায় ড্রেনসহ পাকা রাস্তা নির্মাণ ও সড়কবাতির ব্যবস্থা, পাড়া মহল্লার অলিগলি রাস্তাগুলো সংস্কার ও পাকাকরণ, জিয়া হল নির্মাণ ও চালুকরণ ইত্যাদি বিষয়েও ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রæতির কথা উল্লেখ করেন।
ইশতেহার ঘোষণা শেষে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে খুলনা সিটি করপোরেশনকে এরকম একটি ‘নাগরিক শাসন’ভিত্তিক জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নাগরিকদের ইচ্ছাতেই সিটি করপোরেশন পরিচালনা করা হবে। নগর ভবন হবে জনতার ভবন। যে কোন প্রয়োজনে বাধাহীনভাবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মেয়রের দরজা সকল নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তিনিকোনো সাহেব হতে চান না জানিয়ে ‘মঞ্জু’ বা ‘মঞ্জু ভাই’ নামেই আমৃত্যু আমাকে ডাকবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে আমাদের পূর্বসূরিদের অনবদ্য অবদানসমূহের সার্থক স্বীকৃতির মাধ্যমেই খুলনার জন্য আরো আধুনিক ও উন্নত পরিকল্পনা গ্রন্থিত করতে অনুপ্রাণিত ও উদ্যোগী হতে ভোট প্রদান করে তাকে মেয়র নির্বাচিত করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মঞ্জু।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, জেলা সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, সাবেক এমপি সেকেন্দার আলী ডালিম, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন