খুলনায় ফের শুরু হচ্ছে কাশেম হত্যার বিচার

আপডেট: 10:36:47 17/09/2017



img

খুলনা অফিস : নগর জাতীয় পার্টি ও খুলনা চেম্বারের তৎকালীন সভাপতি শেখ আবুল কাশেম হত্যা মামলার বিচারকাজ ২৮ সেপ্টেম্বর আবার শুরু হচ্ছে। জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হওয়ার সমন দিয়েছেন।
হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১১ ও ২০১৪ সালে মামলাটির বিচারকাজ স্থগিত হয়েছিল। ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল দিনের বেলা খুলনা সদর থানার কাছে বেসিক ব্যাংকের সামনে কাশেম ও তার ড্রাইভার মিকাইল হোসেন খুন হন।
আদালতের সূত্র জানায়, খুনের পর নিহতের নিকট-আত্মীয় বানিয়াখামার এলাকার মৃত শেখ আব্দুল খালেকের ছেলে শেখ আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন। বাদী এরই মধ্যে মারা গেছেন।
দীর্ঘ তদন্তের পর ১৯৯৬ সালের ৫ মে দশজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিরা হলেন, নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জলিল টাওয়ারের মালিক সৈয়দ মনিরুল ইসলাম, সাউথ সেন্ট্রাল রোড এলাকার অধিবাসী তরিকুল হুদা টফি, সাবেক সংসদ সদস্য (খুলনা-৩, চতুর্থ জাতীয় সংসদ) আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস, কেসিসির সাবেক ডেপুটি মেয়র ইকতিয়ার উদ্দিন বাবলু, আনিসুর রহমান ওরফে মিল্টন, মো. তারেক, জাপা মনোনীত কেসিসির আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এসএম মুশফিকুর রহমান, তার সহোদর ওয়াসিকুর রহমান এবং মফিজুর রহমান।
গত ২০ বছরে নিহতের ভাইপো শেখ মনিরুজ্জামান এলু, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. শাহজাহান, কেষ্ট দাস, শেখ মঞ্জুর মোর্শেদসহ ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ মনিরুল ইসলামের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০১১ সালের ৮ জুন এবং পরে অপর আসামি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাসের আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত আদেশ দেন।
সর্বশেষ আর কোনো আদেশ না থাকায় আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর মো. মোস্তফা কামাল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা ও মো. আব্দুল হান্নানকে ধার্য দিনে (২৮ সেপ্টেম্বর) হাজির হওয়ার জন্য ২৩ আগস্ট সমন জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত ধার্য দিনটি সম্পর্কে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের অবহিত করেন।
এ আদালতের বিশেষ পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন জানান, উচ্চ আদালতের আর কোনো আদেশ না থাকায় জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার বিচারকাজ আবার শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সাবেক ডেপুটি মেয়র ইকতিয়ার উদ্দিন বাবলু প্রতিপক্ষের হাতে খুন হয়েছেন।’
নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালের ৮ জুন বিচারকাজ শুরু হলেও দীর্ঘ ২২ বছরেও তা শেষ হয়নি। বিচারকাজ শুরুর প্রথম দিনই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিআরপিসি ৪৯৪ ধারামতে প্রজ্ঞাপনে চার্জশিট থেকে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র কাজী আমিনুল হকের নাম বাদ দেয়। প্রধান সাক্ষী আসাদুজ্জামান লিটু ক্রসফায়ায়ে নিহত হয়েছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ সুপার (এসপি) খোন্দকার ইকবালও মারা গেছেন।
নিহত শেখ আবুল কাশেম এরশাদের আমলে নতুন বাংলা যুব জনসংহতির খুলনা নগর শাখার আহ্বায়ক, নগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং তৎকালীন খুলনা পৌরসভার ইকবালনগরের কমিশনার (বর্তমান নাম কাউন্সিলর) ছিলেন। মৃত্যুকালে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে তার ভীষণ দাপট ছিল।
তার সহোদর শেখ আবুল খয়ের ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে খুন হন। এই পরিবার তখন মুসলিম লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

আরও পড়ুন