খুলনার ৭৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট: 02:35:22 29/04/2018



img

খুলনা অফিস : পঞ্চম কেসিসি নির্বাচনে ৭৮ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে শনাক্ত করেছে মেট্রোপলিটন পুলিশ।  এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করা হবে।
প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য দশজন সশস্ত্র পুলিশ থাকবে। এছাড়াও কেন্দ্র প্রতি দুই জন সশস্ত্র আনসার সদস্য নিয়োগ করা হবে। চার লাখ ৪০ হাজার ভোটারের নিরাপত্তার জন্য ৬৪০ জন বিজিবি সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিমে কাজ করবে। থাকবেন ৩১ জন ম্যাজিস্ট্রেট এবং র‌্যাবের ৩১টি মোবাইল টিম।
মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগরীর ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ। চতুর্থ কেসিসি নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল আরো কম। পেশীশক্তি প্রদর্শন এবং বিগত দিনে কারচুপি হওয়ার কারণে এসব কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
কেএমপির সহকারী কমিশনার সোনালী সেন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় দশজন সশস্ত্র পুলিশ পাহারায় থাকবে। সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে আটজন সশস্ত্র পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। সব মিলিয়ে কেএমপির জনবল থাকবে পাঁচ হাজারের উপরে।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আছিয়া দারুস সালাম দাখিল মাদরাসা, হাজী মালেক সালেহিয়া দারুস সুন্নাহ মাদরাসা, আহমদিয়া এতিমখানা, দক্ষিণ টুটপাড়া আহমদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুটপাড়া বয়েজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ টুটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম টুটপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পূর্ব বানিয়াখামার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডি আলি ইসলামিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ জিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়, দারুল উলুম মাদরাসা, নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হ্যানে রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রভাতি রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাবলা সবুজ সংঘ, পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দৌলতপুর বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালিমুল মিল্লাত রহমানিয়া মাদরাসা, রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন, এরশাদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রিন্স আগা খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেটিএম হাইস্কুল, খালিশপুর কেন্দ্রীয় আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নয়াবাটি জনকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেয়ানা দক্ষিণপাড়া আজিজুল মেমোরিয়াল ক্লাব ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়।
রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে ২৪ জন এবং সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, একটি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে তা চূড়ান্ত হয়নি।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার এটিএম শামীম মাহমুদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দক্ষ প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে আগের দুর্নাম ঘোঁচাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, স্থানীয় রাজনীতিক ও সমাজসেবীদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
আনসারের জেলা কমান্ড্যান্ট মোল্লা আবু সাঈদ জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন সশস্ত্র আনসার, সাতজন পুরুষ ও পাঁচজন মহিলা লাঠিধারী আনসার দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে আনসারের জনবল থাকবে চার হাজার ৪৬। আনসাররা ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রিজাইডিং অফিসারের নির্দেশনা অনুসরণ করবেন।
বর্ডার গার্ড খুলনা সেক্টরের কর্মকর্তা মেজর হান্নান খান জানিয়েছেন, কেসিসি এলাকার নিরাপত্তায় তাদের ৬৪০ জনবল নিয়োগ থাকবে। তারা স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল ডিউটি করবে। ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করতে র‌্যাব প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল টিম নিয়োগ করবে।
কেসিসিতে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩১। সন্ত্রাসী দমন ও পেশীশক্তির প্রভাবমুক্ত ও অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে ৩১ জন ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন।
শনিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে স্থানীয় শহীদ হাদীস পার্কে সুজন আয়োজিত মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে নগরবাসী তৌফিকুর রহমান পিন্টু, কাজী শহীদুল্লাহ রাজু, শাহানা আক্তার, মারিয়া মল্লিক, নাসির উদ্দীন, আকতার হোসেন রজন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন