যশোরে সাংবাদিক আনন্দকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় পোঁচ

আপডেট: 01:13:24 24/11/2017



img

স্টাফ রিপোর্টার : বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যশোরে সাংবাদিক আনন্দ দাসকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা।
তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যশোর সদরের চাঁচড়া বর্মণপাড়ায় বিলহরিণার পাশে। 
আনন্দ যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক প্রতিদিনের কথার অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাদারডাঙ্গা গ্রামের শিবপদ দাসের ছেলে। বর্তমানে যশোর শহরের ষষ্ঠিতলাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
আনন্দ দাস জানান, সন্ধ্যায় তিনি চাঁচড়া বর্মণপাড়ার মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় তিন দুর্বৃত্ত তাকে পাশের বিলের কাছে নিয়ে যায়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ের গোড়ালি, বাম হাতের কব্জি ও গলায় পোঁচ মারে। এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
কারা কী কারণে তাকে জখম করেছে- তা বলতে পারেননি আনন্দ।
দুর্বৃত্তরা চলে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনেন।
বর্মণপাড়ার হোটেল ব্যবসায়ী অনুপ বসু সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই এলাকা থেকে একজন তাকে খবর দেন, বিলের মধ্যে কাদামাটি মাখা অবস্থায় এক ব্যক্তি পড়ে আছেন। এসময় তিনি স্থানীয় লোকজন নিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান, আনন্দর শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। রক্ত দেওয়া লাগবে। তবে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
আনন্দ দাসের স্ত্রী সুস্মিতা দাস জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে অফিসে গিয়েছিলেন। দুপুরে খাবার আগে তাকে ফোন করলে, জানান  বাইরে আছেন, ফিরতে দেরি হবে। এরপর বিকেল থেকে ফোন করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। বারবার ফোন বাজছিল। কিন্তু কেউ রিসিভ করছিল না। সন্ধ্যার দিকে কেউ একজন ফোন রিসিভ করে আমার পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি জানান, মাছের ঘেরের মধ্যে আনন্দ পড়ে আছেন। অবস্থাও ভালো না। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিদিনের কথার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল বলেন, 'সন্ধ্যায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আনন্দ দাসকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছে। উদ্ধার করে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডাক্তাররা তার শরীরে অস্ত্রেপচার করছেন। অবস্থা আশংকাজনক। তবে কারা, কী কারণে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছে সেটি এখনো জানা যায়নি।'
কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার জানান, খবর শুনে তিনি হাসপাতালে গেছেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

আরও পড়ুন