বাড়ির টিউবওয়েল পর্যন্ত উঠিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা

আপডেট: 08:25:51 20/07/2018



img
img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পাঁচগ্রাম ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামে একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বাদী পক্ষের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে একটি পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে। বাদী পক্ষের দুর্বৃত্তরা যাদবপুর গ্রামের দুলাল মোল্যার (৬৫) বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনটি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। তারা বাড়িটি থেকে সোনার গয়না, টাকা, পুকুরের মাছ, টিউবওয়েল, জমির ধান ও আসবাবপত্র লুটে নিয়েছে।
দুলাল মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, ‘এই গ্রামের পান দোকানি সাঈদ ভূঁইয়া (৬০) হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আমার বাড়িতে দুই দফা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে বাদীপক্ষের লোকজন। আমার পরিবারের কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। এমনকি আমরা এ মামলার আসামিও নই। তবুও বাদীপক্ষের অব্যাহত অত্যাচারে বাড়িঘরে থাকতে পারছি না। গত সাড়ে তিন মাসে দুই বার বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।’
‘এরই মধ্যে গত ১২ জুলাই বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আমার বাড়ি ভাংচুর করে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। তারা তিনটি ঘরের জানালা-দরজাসহ আসবাবপত্র কুপিয়ে ও ভাংচুর করে সবকিছু তছনছ করে। যাবদপুর গ্রামের কিবরিয়া গাজীর নেতৃত্বে হুমায়ুন শেখ, জুবা শেখ, রমজান শেখ, রাসেল গাজী, জাকির গাজী, হাদিউর সরদার, হাসিকুল সরদার, সেলিম ভূঁইয়া ও মহব্বত ভূঁইয়াসহ বেশ কয়েকজন বাড়িঘরে হামলা চালায়। হত্যার উদ্দেশে আমার ওপর হামলা করতে গেলে দৌড়ে পালাই। আমাদের পরিবার আওয়ামী লীগ সমর্থক। আর সাঈদ হত্যাকাণ্ডস্থল থেকে আমাদের বাড়ি প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরদিকে। তা সত্তে¡ও আমাদের ওপর অত্যাচার চলছে।’
এলাকাবাসী জানান, গৃহকর্তা দুলাল মোল্যা বাড়িতে এসেছেন- এমন খবর শুনে তার বাড়িঘর কুপিয়ে তছনছ করে দুর্বৃত্তরা।
দুলাল মোল্যার স্ত্রী মিলা বেগম বলেন, ‘কিবরিয়া গাজীর নেতৃত্বে তার লোকজন গত ১২ জুলাই বিকেলে আমার স্বামীকে খুন করতে আসে। তার আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।’
‘এর আগে আমাদের বাড়ি থেকে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা প্রায় আট ভরি সোনার গয়না, প্রায় ৩০ হাজার টাকা, খাটসহ বিভিন্ন আসবাপত্র লুট করে। এমনকি ২০১৪ সালে হজ পালন করে সৌদি আরব থেকে আনা আমাদের দুইজনের (স্বামী-স্ত্রী) কাফনের কাপড় পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে তারা। পুকুরের প্রায় ১০ মণ মাছও লুট করেছে। বাড়ির টিউবওয়েল পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। প্রায় ১৮০ শতক জমির বোরো ধান কেটে নিয়ে গেছে। গেল রোজার ঈদ আমরা বাড়িতে করতে পারিনি। আমাদের পরিবারের ১৩ সদস্য বাড়িঘর ছাড়া। ছেলেরা কর্মস্থল থেকে ছুটি পেলেও বাড়িতে আসতে পারছে না। আমি এবং আমার স্বামী দিনের বেলা মাঝে-মধ্যে বাড়িতে আসলেও দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়।’
‘আমাদের সামনেই বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাংচুর করে। ভয়ে কিছু বলতে পারি না। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই,’ বলেন গৃহবধূ মিলা।
প্রতিবেশীরা জানান, দুলাল মোল্যার পরিবারের সদস্যরা নিরীহ ও শান্ত প্রকৃতির। অথচ বাদী পক্ষের লোকজনের ভয়ে তারা বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাদবপুর গ্রামের আরো ৩০টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে কিবরিয়া গাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে কিবরিয়া গাজীর সমর্থক হাদিউর সরদার বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। দুলাল মোল্যার ওপর দুটি ছেলে হামলা করতে গেলেও আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।’
কালিয়া থানার ওসি শেখ শমসের আলী বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৩১ মার্চ যাদবপুর গ্রামের পান দোকানি সাঈদ ভূঁইয়াকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই গ্রামের কিবরিয়া গাজীর সঙ্গে হেমায়েত মুন্সির দীর্ঘদিন ধরে দ্ব›দ্ব-সংঘাত চলে আসছে। নিহত সাঈদ ভূঁইয়া কিবরিয়া গাজীর সমর্থক ছিলেন।

আরও পড়ুন