খুলনা-কলকাতা যাত্রীট্রেন চলা শুরু

আপডেট: 11:52:47 16/11/2017



img
img

খুলনা অফিস : মৈত্রী ট্রেন ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’-এর বাণিজ্যিক যাত্রার প্রথম দিন ৫৩ জন যাত্রী নিয়ে খুলনা স্টেশনে এসে পৌঁছায়। ফিরতি ট্রেন ২৫৩ জন যাত্রী নিয়ে দুপুরে কলকাতার উদ্দেশে খুলনা স্টেশন ত্যাগ করে।
বন্ধনের আসন সংখ্যা ৪৫৬। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলাও যাত্রীদের সঙ্গে খুলনা থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন।
ট্রেন চলাচল উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে খুলনা স্টেশনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। বাণিজ্যিক যাত্রার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার যাত্রার সময় মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় ট্রেনটি খুলনা স্টেশনে এসে পৌঁছায়, ফিরে যায় পৌনে ২টায়। ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্রধান অতিথি হিসেবে কলকাতা যাত্রার উদ্বোধন করেন।
যাত্রার শুরুতে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘ট্রেন চালুর মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটবে। রোগী ও বৃদ্ধদের যাতায়াতে সুবিধা হবে।’
তিনি বলেন, ‘অসুস্থ ও বৃদ্ধদের ভিসা সহজ করা হবে। সরাসরি ট্রেন চালুর ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগও অনেকটা কমবে। এছাড়া ভিসা সহজীকরণের জন্য শিগগির খুলনায় সহকারী হাই কমিশনারের কার্যালয় খোলা হবে।’
খালিশপুরের বাসিন্দা সারজিনা আলম সুজানা বলেন, ‘ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেলে খুবই ভালো লাগছে। এ রুটে ট্রেন চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ খুব সহজে কলকাতায় যাতায়াত করতে পারবে।’
বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (পাকশী) অসীমকুমার তালুকদার বলেন, ‘বন্ধন এক্সপ্রেসে দশটি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ইনজিন ও পাওয়ারকার দুটি। বাকি আটটি কোচে ৪৫৬টি আসন যাত্রীদের। আসনগুলো সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এর মধ্যে কেবিন ১৪৪টি এবং চেয়ার ৩১২টি। এ রুটের দৈর্ঘ্য ১৭৫ কিলোমিটার। ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে কেবিন দুই হাজার, আর চেয়ার দেড় হাজার টাকা।
খুলনা স্টেশন মাস্টার মানিকচন্দ্র সরকার বলেন, ‘৯ নভেম্বর খুলনা-কলকাতা রুটে বন্ধন এক্সপ্রেস উদ্বোধন করা হয়। আর বৃহস্পতিবার যাত্রী নিয়ে বন্ধন এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করলো।’
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের জন্য ২৫৩টি টিকিট বিক্রি হয় এবং সমসংখ্যক যাত্রী নিয়েই ট্রেন যাত্রা করে।
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ১৭ দিনের পাক-ভারত যুদ্ধের পর কলকাতা-খুলনা রুটে যাত্রীট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন