সিভিল সার্জন হাসপাতালে, তাই গেট বন্ধ

আপডেট: 08:39:12 04/11/2017



img

আনোয়ার হোসেন, মণিরামপুর (যশোর) : ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ১টা ৪৮ মিনিট। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে অবস্থান করছেন। হাসপাতালের তিন তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি এক রুগীর সাক্ষাৎকার নিতে তিন তলার গেটের সামনে যাওয়া।
ওপরে উঠতেই দেখা গেল ভেতর থেকে তালা ঝুলছে। গেটের সামনে এখানে ওখানে অবস্থান করছেন রোগীর স্বজনরা। কোনো কোনো রোগী আবার গেট ধরে দাঁড়িয়ে ভেতর থেকে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছেন। কেউ ভেতরে যেতে পারছেন না, আবার বাইরে বের হতেও পারছেন না। এভাবে চলছে প্রায় তিন ঘণ্টা। জিজ্ঞেস করতেই উত্তর মিললো, ‘ওপর থেকে কে নাকি আসবে। তাই ভেতরে পরিষ্কার করার কথা বলে আমাদের বাইরে বের করে দিয়েছে নার্সরা।’
বেলা ১১টায় তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনটার আগে আর ভেতরে  ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা শনিবার হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ড পরিদর্শনে যাননি।
তিন তলার গেটের বাইরে অবস্থানকারী আকলিমা জানান, আট নম্বর বেডের রোগী বজলুর রহমান তাদের স্বজন। সকালে রোগীর জন্য ভাত নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। রোগীকে ভাত খাওয়ানোর আগেই তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। রোগী সকাল থেকে অভুক্ত।
আকলিমা বলেন, ‘দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে দেখে জুতা খুলে ভেতরে রোগীর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলে এক নার্স আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তিনটার আগে ঢোকা যাবে না বলে নার্স সাফ জানিয়ে দিয়েছে।’
ভরতপুর গ্রামের ফেরদৌসি বলেন, ‘ছয় নম্বর বেডের রোগীকে ভর্তি করে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে ফিরে দেখি গেট বন্ধ। তখন থেকে বাইরে দাঁড়িয়ে আছি।’
একই অভিযোগ রোগীর স্বজন মায়ারানি, খাদিজা, বাহার আলীসহ অনেকের।
এদিকে, হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের এই বিড়ম্বনার খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা হাজির হন। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত ভেতর থেকে এসে এক আয়া গেট খুলে দেন।
এসময় জানতে চাইলে ওই ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স ডলি পারভিন বলেন, ‘ওপর থেকে স্যারেরা ভিজিটে আসার কথা। তাই আমরা গেট লাগিয়ে পরিষ্কার করছি।’
আরেক নার্স কৃষ্ণাও এই কথা সমর্থন করেন।
একই সময় হাসপাতালের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে গেট খোলা ও রোগী ও তাদের স্বজনদের চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। জানতে চাইলে ওই ইউনিটের দায়িত্বে থাকা নার্স অর্চনা কুণ্ডু বলেন, ‘আমরাতো সব পরিষ্কার করিয়েছি। কই গেট দিইনি তো!’
এই বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আব্দুল গফ্ফারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ রায় বলেন, ‘শনিবার কৃমির বড়ি খাওয়ানোর দিন ছিল। তাছাড়া রাতে হাসপাতালে বিদ্যুতের তার চুরির ঘটনা শুনে এদিন মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েছিলাম। তবে কোনো ওয়ার্ড পরিদর্শন করা হয়নি।’

আরও পড়ুন