কঠোর শর্তে আড়াই বছর পর বিএনপির সমাবেশ

আপডেট: 01:07:30 20/07/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : আড়াই বছর পর রাজধানীতে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি।
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শুক্রবার বিকেল তিনটায় নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশ শুরু হবে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন।
ঢকা মহানগর পুলিশ বলছে, ২৩টি শর্তসাপেক্ষে বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে বিএনপিকে ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ’ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “লিখিত অনুমতি পাওয়ার পর আমরা সময় পেয়েছি কম। তারপরও সমাবেশের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছি। জুমার পর বিকেল তিনটায় সমাবেশের কার্য্ক্রম শুরু হবে।”
খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে মহানগর-জেলা-উপজেলায় একযোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হবে বলে জানান রিজভী।
এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজার রায়ের পর গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে।
সেখানে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দাবি করে তাকে মুক্তি দিয়ে ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।
এই দাবিতে গত ১৫ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি নয়া পল্টনে সমাবেশ করে বিএনপি; সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
যেসব শর্তে অনুমতি
১. এই অনুমতি স্থান ব্যবহারের অনুমতি নয়। স্থান ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
২. বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৩. স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করতে রাস্তা ব্যবহার করে কিংবা রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করা যাবে না।
৪. নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক (দৃশ্যমান আইডি কার্ডসহ) রাখতে হবে।
৫. স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সমাবেশ কর্মসূচির ভেতরে ও বাইরে উন্নত রেজুলেশনের সিসি ক্যামেরা বসাতে হবে।
৬. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি প্রবেশ গেটে আর্চওয়ে স্থাপন করতে হবে এবং সমাবেশ কর্মসূচিতে আগতদের মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে চেক করতে হবে।
৭. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভেহিকল স্ক্যানার/সার্চ মিররের মাধ্যমে কর্মসূচিস্থলে আসা সব যানবাহনে তল্লাশির ব্যবস্থা করতে হবে।
৮. নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচিস্থলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৯. অনুমোদিত স্থানের বাইরে মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
১০. অনুমোদিত স্থানের বাইরে বা সড়কের পাশে ‘প্রজেকশন’ স্থাপন করা যাবে না।
১১. অনুমোদিত স্থানের বাইরে, রাস্তায় বা ফুটপাতে কোথাও লোক সমবেত হওয়া যাবে না।
১২. আজান, নামাজ বা অন্যান্য ধর্মীয় সংবেদনশীল সময়ে মাইক/শব্দযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
১৩. অনুমোদিত সমাবেশ কর্মসূচি ছাড়া অন্য কোনো কাজে মঞ্চ ব্যবহার করা যাবে না।
১৪. আইন-শৃঙ্খলাপরিপন্থী, জনস্বার্থ, সরকার বা রাষ্ট্রবিরোধী এবং জননিরাপত্তা বিরোধী কার্যকলাপ করা যাবে না।
১৫. উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য প্রদান বা প্রচারপত্র বিলি করা যাবে না।
১৬. ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কোনো বিষয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য প্রদান বা প্রচার করা যাবে না।
১৭. সমাবেশ কর্মসূচি শুরুর সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা আগে লোকজন কর্মসূচিস্থলে আসতে পারবে।
১৮. বিকেল পাঁচটার মধ্যে কর্মসূচির যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে হবে।
১৯. অনুমোদিত সময়ের আগে কিংবা পরে অনুমোদিত স্থানের আশপাশসহ রাস্তায় কোনো অবস্থাতেই সমবেত হওয়া বা যান ও জনচলাচলে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।
২০.কোনা ধরনের লাঠি-সোঁটা বা ব্যানার, ফেস্টুনের আড়ালে লাঠি, রড বহন করা যাবে না।
২১. মিছিল করে সমাবেশস্থলে যাওয়া যাবে না।
২২. এসব শর্ত যথাযথভাবে পালন না করলে তাৎক্ষণিকভাবে এই অনুমতি বাতিল বলে গণ্য হবে।
২৩. কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমতির আদেশ বাতিল করতে পারে।
শুক্রবারের সমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা বেড়েছে।
ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ করে সেখানে এই সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে বলে দলের মহানগরের নেতারা জানিয়েছেন। 
এই সমাবেশ ঘিরে নয়া পল্টন সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র : বিডিনিউজ

আরও পড়ুন