ন্যাম ভবনে এমপি লুৎফুল্লাহর ছেলের লাশ

আপডেট: 02:43:31 21/01/2018



img
img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সংসদ সদস্য ভবন (ন্যাম ভবন) থেকে সাতক্ষীরার তালা-কলারোয়া আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহর ছেলে অনীক আজিজ স্বাক্ষরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গনেশগোপাল বিশ্বাস বলেন, রোববার সকালে খবর পেয়ে তারা পাঁচ নম্বর ভবনে সংসদ সদস্যের বাসা থেকে অনীকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, এমপির এপিএস জাহাঙ্গির হোসেন তাকে জানিয়েছেন, ঢাকার ন্যাম ফ্লাটে একমাত্র বোন সৃষ্টি অনিক আজিজ ও ড্রাইভার ছিলেন। এমপি সাতক্ষীরায় অবস্থান করছিলেন। রাতের খাওয়া শেষে সবাই ঘুমাতে যান। রোববার সকালে সবাই ঘুম থেকে উঠলেও অনিক আজিজ
উঠছিলেন না। অনেক ডাকাডাকি করলেও না ওঠায় তার রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার লাশ উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ সাতক্ষীরায় নিয়ে আসা হবে বলে তিনি জানান। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা বলতে পারেননি এপিএস জাহাঙ্গির।
বিডিনিউজ জানায়, ২৭ বছর বয়সী অনীক খুলনার সিটি পলিটেকনিক থেকে ইলেক্ট্রিক্যালে ডিপ্লোমা করে বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে আইইএলটিএস করছিলেন। পাশাপাশি পাঠশালায় ফটোগ্রাফির কোর্স করছিলেন তিনি। 
শেরেবাংলা নগর থানার এসআই শফিকুর জানান, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তার গলায় পেঁচানো অবস্থায় অনীকের দেহ শোবার ঘরের ফ্যানে ঝুলছিল। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মনে করলেও কী কারণে অনীক আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি তার পরিবার। 
এমপি লুৎফুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, “পোস্ট মর্টেম হলেই সব বোঝা যাবে।”
অ্যাডভোকেট মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে এবারই প্রথম তিনি এমপি হয়েছেন।
শনিবার রাতে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় ছিলেন অনীক, তার বোন অদিতি আদৃতা সৃষ্টি এবং তাদের পরিবারের এক ড্রাইভার।
মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও তার স্ত্রী নাসরীন খান লিপি শনিবার ছিলেন সাতক্ষীরায়। রোববার সকালেই তারা ঢাকায় ফেরেন।  
সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মফিজুল হক জাহাঙ্গীর বলেন, “রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই ঘুমাতে যায়। সকালে সবাই উঠলেও অনীক উঠছিল না। অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে বিকল্প চাবি দিয়ে ঘরের দরজা খুলে ভেতরে লাশ পাওয়া যায়।”
জাহাঙ্গীর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে অনীকের মরদেহ হেলিকপ্টারে করে নেওয়া হবে সাতক্ষীরা সদরের পলাশপোলে। সেখানেই তার দাফন হবে।

আরও পড়ুন