রাতেই বিয়ে হয়ে গেল মেয়েটির

আপডেট: 10:22:50 17/10/2017



img

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : ‘মেয়ের বয়স ১৮ না হলে বিয়ে দেবো না’ বলে  প্রশাসনকে মুচলেকা দিয়েছিলেন অভিভাবকরা। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর পরই মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে দেয় পরিবারটি।
আইন অমান্য করার এই ঘটনা অভয়নগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের। ওই গ্রামের আলোচিত বিলাস রায় ঘটনাটি ঘটান।
স্থানীয়রা বলছেন, গত শনিবার নওয়াপাড়া শহরের আমডাঙ্গা এলাকার মৃণাল রায়ের ছেলে প্রদীপ রায়ের সঙ্গে রাজাপুর গ্রামের বিলাস রায়ের দশম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে পিয়ারানির বিয়ে উপলক্ষে আশীর্বাদ অনুষ্ঠান হয়। সোমবার  সন্ধ্যায় বিয়ের আয়োজন চলছিল।
এ খবর জানতে পেরে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমএম মাহমুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনদীপ ঘরাই রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে হাজির হন। তারা বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। এ সময়ে তারা বর ও কনের পরিবারের অভিভাবকদের ডেকে ‘উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্তÍ মেয়ের বিয়ে দেবেন না’ মর্মে মুচলেকায় স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
কিন্তু কর্মকর্তারা ওই এলাকা ছাড়ার কিছুসময় পর ওই রাতেই বিয়ে হয় প্রদীপ-পিয়ার। উভয় পরিবারের অভিভাবকরা এই বেআইনি কাজ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিয়া আড়পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। সে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। জন্মসনদে তার জন্মতারিখ লেখা রয়েছে ০১-০২-২০০১। সেই হিসেবে তার বয়স ১৬ বছর।
স্কুলটির শিক্ষকরা জানান, পিয়া মেধাবী ছাত্রী।
নাম প্রকাশ না কারার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিলাস রায় ভারতে লোক পাচারের কাজ করেন। তার মেয়েকে যে ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন, সে ভারতের উত্তর প্রদেশে ডাক্তারি করে। মেয়েকে নিয়ে ওই ছেলে হয়তো দেশত্যাগ করেছে।
প্রশ্ন করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে বর ও কনের অভিভাবকেরা মুচলেকা দিয়েছিল। কিন্তু গোপনে যদি বিয়ে হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন