সাপের খেলা

আপডেট: 10:25:06 22/07/2018



img
img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : বিষধর সাপ দেখে ভয় পান না এমন মানুষ কমই আছেন। আর সে সাপ বশে আনার যদি নানা কৌশল প্রদর্শন করা হয় তাহলে কেমন হয় তার বলার দরকার পড়ে না।
এমনই এক সাপের খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। যাকে এই অঞ্চলের মানুষ ‘ঝাপান খেলা’ বলে জানে। এ খেলায় অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাপুড়েদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সাপের এই খেলা দেখতে জড়ো হন আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ। খেলাকে ঘিরে ওই এলাকা পরিণত হয় উৎসবের জনপদে।
বাদ্যের তালে আর বাঁশির সুরে একে একে ঝুড়ি ও হাড়ি থেকে বের হয়ে আসে গোখরাসহ বিভিন্ন বিষধর সাপ। মনসামঙ্গলের পালাগানসহ বিভিন্ন গানের সঙ্গে বাদ্যের তালে সাপুড়েকে নিজে নাচতে হয় আর সঙ্গে ফনা তেলে সাপও। সাপুড়ের কৌশলে সাপের নানা ভঙ্গি মানুষকে দেয় অনাবিল আনন্দ।
শনিবার (২১ জুলাই) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শিশুরা উপস্থিত থেকে উপভোগ করেন ঝাপান খেলা। আর খেলাকে ঘিরে এখানে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। ছয় সাপুড়ে দলের অর্ধ শতাধিক সাপের মধ্যে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে প্রতিটি সাপের মালিক প্রদর্শন করেন নিজের আকর্ষণীয় কসরত। আর এই দুর্লভ দৃশ্য দেখতে দূরদুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা পরিতৃপ্তি নিয়ে ফেরেন।
সাপুড়েরা জানান, মানুষকে আনন্দ দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
দিনভর এ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন শৈলকুপার লিটন সাপুড়ে। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন শহিদুল ইসলাম।
ঐতিহ্যবাহী এ খেলা আয়োজন করেছিলেন সৃজনী বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. এম হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, চিরায়ত বাংলার ঐহিত্যবাহী এ খেলা ধরে রাখতেই এই আয়োজন। মানুষকে নিবিড় আনন্দ দেওয়ার মধ্যে থাকে নিজেদের আনন্দ পাওয়া।
শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।