ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসছেন দেবী দুর্গা

আপডেট: 02:25:22 15/10/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : এবার ঘোটক (ঘোড়ায়) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসছেন দেবী দুর্গা। আর যাবেন দোলায় চড়ে। তবে এবার দুর্গার আগমন-গমন দুটোই অমঙ্গল। এরপরও তিনি জগতের মঙ্গল কামনা করবেন বলে মনে করেন হিন্দু পুরোহিতরা।
দেবীকে বরণ করতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। সোমবার (১৫ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এজন্য প্রস্তুত পুরো দেশ।
পঞ্জিকা মতে, দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। রোববার (১৪ অক্টোবর) সায়ংকালে দেবী বোধন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার শ্রীশ্রীদুর্গাষষ্ঠী। এদিন সকাল ছয়টা ২৫ মিনিটে কল্পারম্ভ এবং বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে উৎসবের প্রথম দিন সম্পন্ন হবে। এদিন সকাল থেকে চণ্ডিপাঠে মুখরিত থাকবে সব মণ্ডপ। পরদিন মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) মহাসপ্তমী। এদিন সকাল নয়টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তমাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবের তৃতীয় দিন ১৭ অক্টোবর বুধবার মহাঅষ্টমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকালে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সন্ধিপূজা শুরু হবে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটে। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ছয়টায় শুরু হবে নবমী পূজা। শুক্রবার সকাল সাতটায় পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন হবে সকাল আটটায়। পরে প্রতিমা বিসর্জন ও শান্তিজল গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলনকান্তি দত্ত বলেন, ‘আমরা সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সব ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা আমাদের দায়িত্ব। বিজয়া দশমী শুক্রবার জুমার দিন। এদিন দুপুর ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত শোভাযাত্রা বন্ধ রাখা হবে এবং রাত দশটার মধ্যে নিরঞ্জন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, এ বছর সারা দেশে ৩১ হাজার ২৭২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের চেয়ে এবার এক হাজার ১৯৫টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। ঢাকায় ছয় হাজার ৮০৪টি, চট্টগ্রামে চার হাজার ৫০৬, সিলেটে দুই হাজার ৩৪১, খুলনায় চার হাজার ৮৮৩, রাজশাহীতে তিন হাজার ৫৪২, রংপুরে পাঁচ হাজার ৩৭১, বরিশালে এক হাজার ৭২৪ ও ময়মনসিংহে দুই হাজার ১০১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে।
পূজা পরিষদের এই নেতার মতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ও প্রস্থান খারাপ সংবাদ নিয়ে আসছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয় তারই প্রমাণ। ঘূর্ণিঝড় তিতলি ও ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত সুনামি বলে দিচ্ছে বছরটি ভালো যাবে না। দেবী দুর্গা তো আর শুধু বাংলাদেশের জন্য না, তিনি সারা পৃথিবীর জন্য।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনের মৃদুল মহারাজ বলেন, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটক (ঘোড়ায়) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগ, শোক, হানাহানি, মারামারি বাড়বে। অন্যদিকে কৈলাশে (স্বর্গে) বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। যার ফলে জগতে মড়কব্যাধি এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা বাড়বে।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন