ট্রাক আটক মারধর, বেনাপোলে চার ঘণ্টা অবরোধ

আপডেট: 03:37:59 23/10/2017



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে শুল্ক পরিশোধ করা আমদানিকৃত তিন ট্রাক টু-হুইলার পার্টস আটক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে ‘মারধরের’ প্রতিবাদে বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারীরা রোববার রাতে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আশ্বাসে প্রায় চার ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
রোববার রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অবরোধ চলে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ও বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, ‘নিশাত সামান্তা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে তিন ট্রাক টু-হুইলার পার্টস আমদানি করে। বেনাপোলের ‘তরঙ্গ এজেন্সি’ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্সি আমদানি করা তিন ট্রাক পণ্য রাজস্ব পরিশোধ করে বেনাপোল বন্দর থেকে ছাড় করায়। বিজিবি ও কাস্টমসের যৌথ বাঁশকল (তল্লাশি কেন্দ্র) পার হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাওয়ার সময় বেনাপোল বাজারের বিজিবি ক্যাম্পের সামনে ট্রাক তিনটি থামান বিজিবি সদস্যরা। এ সময় তরঙ্গ এজেন্সির মালিক তরিকুল ইসলাম নয়ন বিজিবির বেনাপোল ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার সফিউর রহমানের কাছে ট্রাক আটকের বিষয়টি জানতে চান। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বিজিবির সদস্যরা কোনো জবাব না দিয়ে তাকে মারপিট করতে থাকেন। নয়নের সহোদর উজ্জ্বল বিজিবির কাছে ক্ষমা চাইলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন মালিক-শ্রমিকরা রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বেনাপোল-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। অবরোধের খবর শুনে লাঠি হাতে বিজিবির কয়েক সদস্য ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অবশ্য পরে তারা ক্যাম্প ফিরে যান।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে রাতে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন জরুরি সভা করে নিজস্ব ভবনে। সভায় বিজিবির হয়রানি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে মারধরের উপযুক্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনে সোমবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধসহ কাস্টম ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরে বিজিবি যশোরের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল আরিফুল ইসলামের হস্তক্ষেপে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা অ্যাসোসিয়েশন ভবনে বৈঠকে বসেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আটক ট্রাক ক্যাম্পের মধ্যে নিয়ে তল্লাশি করা হবে। অবৈধ কিছু না পাওয়া গেলে ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়া আগামী মঙ্গলবার সকল পক্ষকে নিয়ে বিজিবির কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক হবে। এর পর রাত সাড়ে ১১টার দিয়ে অবরোধ তুলে নেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার মো. সফিউর রহমান বলেন, ‘বিজিবি যশোরের কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশে আটক ট্রাকের মধ্যে অবৈধ মালামাল রয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ট্রাকগুলো আটক করি। পণ্য যাচাই-বাছাই করে কোনো গরমিল না পেলে ট্রাক ছেড়ে দেওয়া হবে। আর যদি অবৈধ বা অতিরিক্ত কোনো পণ্য থাকে তবে মামলা করা হবে।’

আরও পড়ুন