গোপনে হজ পালন করেন যারা

আপডেট: 02:33:20 26/08/2018



img

সুবর্ণভূমি ডেস্ক : সৌদি আরবের মক্কায় প্রতিবছরই হজ পালন করেন মুসলিমরা আর সব প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমই আশা করেন যে তিনি জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করবেন।
আহমদিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারীরা নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে দাবি করলেও মুসলিমদেরই অনেক দল কিংবা উপদল তাদেরকে এই স্বীকৃতি দেয় না।
এমনকি ধর্ম বিশ্বাসের কারণে সৌদি আরবে তাদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের কেউ সেখানে হজ পালন করতে গেলে তাকে আটক কিংবা দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
এর মধ্যেও গোপনে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের অনেকে হজ পালন করে থাকেন। তাদেরই একজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেছেন, "অনেক ঝুঁকি ছিল। কিন্তু যখন আপনি যাচ্ছেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তখন আপনিও আল্লাহর সহায়তা পাবেন। কারণ তিনি জানেন আমি একজন মুসলিম। তাই আল্লাহর সমর্থন আমি পাবো।"
মুহাম্মদই (সা.) সর্বশেষ নবী- এটি বিশ্বাস করে না আহমদিয়ারা। তাদের বিশ্বাস, ১৮৩৫ সালে ভারতে জন্মগ্রহণ করা মির্জা গুলাম আহমদ পৃথিবীতে এসেছিলেন নবীর শিক্ষা পুনর্জাগরণের জন্যই।
ফলে ইসলামের অন্য দল উপদলগুলো আহমদিয়াদের অমুসলিম মনে করে।
বিশেষ করে পাকিস্তানে, যেখানে ১৯৭৪ সালে আহমদিয়াদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করে আইন করা হয়।
পাকিস্তানে আহমদিয়াদের ধর্ম বিশ্বাসের বিষয়টি তাদের পাসপোর্টে উল্লেখ করা হয়। আর সেকারণে সৌদি আরব তাদেরকে সেদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয় না।
কিন্তু যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে বা অন্য দেশের নাগরিক যারা, তারা তাদের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে সৌদি আরবে যেতে পারেন।
ম্যানচেস্টারের দারুল আমান মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ আহমেদ খুরশেদ বলছেন, "কিছু দেশ ও গ্রুপ আমাদের অমুসলিম ঘোষণা করেছে। এটি নিতান্তই তাদের মত। আর একারণেই আহমদিয়াদের জন্য হজ পালন কঠিন। এ কারণেই ভ্রমণের সময় তারা বিষয়টি গোপন রাখে।"
ম্যানচেস্টারের এই মসজিদে আসেন এমন অনেকেই একজনকে চেনেন যিনি হজ পালন করেছেন।
একজন নারী বলেন, "আমি কখনো হজে যাইনি কিন্তু আমি যেতে চাই এবং এটি আমার অন্তরের আকাঙ্ক্ষা। কারণ আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি।"
একজন পুরুষ বলছিলেন, যখন বাধা দেওয়া হয় তখন তাদের মধ্যে হজে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তীব্রতর হয়।
এটাকেই তিনি উল্লেখ করেন ধর্মীয় চেতনা ও ধর্মের প্রতি অনুরাগ হিসেবে।
সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন