সেতুর অভাবে পাড়ি দিতে হয় ২০ কিমি

আপডেট: 02:25:55 18/11/2018



img

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : এলাকার লোকের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও আজো নির্মিত হয়নি কেশবপুরের সীমান্তবর্তী ত্রিমোহিনী বাজারে কপোতাক্ষ নদের ওপর ব্রিজ। ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, শত শত শিক্ষার্থীকে ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়।
এলাকাবাসী জানান, কেশবপুরের ত্রিমোহিনী এলাকার মানুষকে বিভিন্ন প্রয়োজনে সাতক্ষীরার কলারোয়া অঞ্চলে এবং সাতক্ষীরার মানুষকে এ অঞ্চলে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু একটি মাত্র সেতুর অভাবে এক কিলোমিটার পথ যেতে এসব মানুষকে ঘুরতে হয় প্রায় ২০ কিলোমিটার। যা ভুক্তভোগীদের জন্য যেমন কষ্টের, তেমনি সময়ের অপচয়। তাই এলাকার মানুষ প্রতিবারই উন্মুখ হয়ে থাকেন- এবার না হলেও সামনের বার কোনো মন্ত্রী-এমপি অনন্ত ব্রিজটি নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন।
কেশবপুর সদর থেকে ১৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ত্রিমোহিনী বাজারের পাশের কপোতাক্ষ নদের ওপর মাত্র আধা কিলোমিটার ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এই উপজেলাসহ কপোতাক্ষ নদ এলাকার মানুষকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা শহরে যেতে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো না। সেতু না হওয়ায় কপোতাক্ষ নদের ওপারের দেয়াড়াসহ তীরবর্তী এলাকার মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় রয়েছেন বছরের পর বছর।
ত্রিমোহিনী বাজারের সাঁকোর পাশের দোকানি স্বপন দত্ত জানান, প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির অনেক ফারাক। আর সে কথা বিবেচনা করে ঘাটের টোল তোলা বন্ধ করে কপোতাক্ষ নদ তীরবর্তী এলাকার দুইপারের মানুষ নিজেরা চাঁদা দিয়ে বাঁশ কিনে নির্মাণ করেছেন সাঁকো। এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিনই আত্মীয়বাড়ি যাওয়া, নিজেদের প্রয়োজনে কেশবপুর থেকে আসা পথচারী, ভ্যান, মোটরসাইকেল এবং ওপারের দেয়াড়া, খোরদো, বাটরা, পাকড়িয়া, বামনখালি, কামারারলিসহ ১০-১২ গ্রামের হাজারো যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। ব্রিজ না থাকায় বাইসাইকেল, ভ্যান ও মোটরসাইকেলই তাদের ভরসা।
এদিকে, অর্থাভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত হয়নি। ফলে সেটি ভেঙেচুরে গেছে। এর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে মানুষ।
হাজরাকাটি গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, কপোতাক্ষ নদের ওপর ব্রিজ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও তা বাস্তবায়নে কারো মাথাব্যথা নেই। নদের উপর একটি ব্রিজ নির্মিত হলে মানুষকে ২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হতো না। এখানকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেত। প্রতিবারের মতো এবারো উভয় পারের মানুষ অধীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন আগামী নতুন সংসদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি পড়বে কি না।
কেশবপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মুনছুর আলী বলেন, ওই স্থানে ব্রিজটি নির্মাণের জন্যে কয়েকবার প্রাক্কলন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে ব্রিজটি নির্মাণ হবে।

আরও পড়ুন