এদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন কি ফিকে হয়ে যাবে

আপডেট: 06:39:22 18/11/2017



img

মৌসুমী নিলু, নড়াইল : সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সজীব, দীপ্র ও সৈকত তিন বন্ধু বুয়েট, কুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে বসেছে। স্বপ্ন ছোঁয়ার অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে এসএসসি, এইচএসসিতে ভালো ফলাফলের পর এ তিন বন্ধু দেশসেরা বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও তাদের ভর্তি এবং লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার সামর্থ হতদরিদ্র পরিবারের নেই। কারণ শুধু ভর্তি হলেই হবে না। এরসঙ্গে প্রয়োজন মাসিক খরচ। তথ্য প্রযুক্তির এই সময়ে কম্পিউটারসহ আনুসঙ্গিক আরো অনেক সাপোর্ট প্রয়োজন।
তিন বন্ধু জানিয়েছেন, তারা বুয়েটে লেখাপড়া করতে আগ্রহী। ডিসেম্বরের ২ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত তাদের ভর্তি কার্যক্রম চলবে। কিন্তু ভর্তির দিন যতই কাছে আসছে ততই তাদের আশংকা বাড়ছে। তারা স্বপ্ন ছুঁতে পারবেন তো?
লোহাগড়া উপজেলার রায়গ্রামের হতদরিদ্র জগদীশ বাইনের ছেলে সজীব বাইন, সদরের বড় মিতনা গ্রামের সুপদ ঘটকের ছেলে সৈকত ঘটক এবং নড়াইলের সীমান্তবর্তী এগারখান গ্রামের প্রদীপ বিশ্বাসের ছেলে দীপ্র বিশ্বাস নড়াইল সরকারি ভিক্টারিয়া কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পান। তারা এসএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ ৫ অর্জন করে। ভিক্টোরিয়া কলেজ, পার্শ্ববর্তী বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ এবং ভাংগুড়া কলেজের কয়েক শিক্ষকের অসামান্য সাহায্য-সহযোগিতার কারণেই তারা এ সাফল্য পেয়েছে।
সৈকতরা দুই ভাইবোন। দিদির বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়ির ভিটে ছাড়া তাদের ২০ শতক জমি থাকলে সৈকতের লেখাপড়ার জন্য এ জমি বছরখানেক আগে ৫০ হাজার টাকা অন্যের কাছে বন্ধক রাখা হয়েছে। বাবা অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করে সংসার চালান। মা সংসারের চাকা সচল রাখতে হাঁস-মুরগি পালন করেন, মৌসুমে অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে এবং অন্যের বীজতলা থেকে চারা তুলে বাড়তি অর্থ রোজগার করেন।
দীপ্র বিশ্বাসদের বাড়ির ভিটে ছাড়া মাত্র দশ শতক জমি রয়েছে। বাবা কখনো ভ্যান চালান, কখনো কৃষিশ্রমিক হিসেবে অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করেন। মা বাড়িতে দর্জির কাজ ও হাঁস-মুরগি পালন করেন। আবার মৌসুমে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজও করেন।
সজীবরা পাঁচ ভাই-বোন। তিন বোন দুই ভাই। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। ভাইদের মধ্যে তিনি বড়। ছোট ভাই ক্লাস নাইনে পড়ে। নিজেদের মাত্র এক বিঘা জমি রয়েছে। অন্যের জমি বর্গা চাষ করে তাদের কোনো রকম সংসার চলে।
সজীব, দীপ্র ও সৈকত জানান, নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ, বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ এবং ভাঙ্গুড়া কলেজের কয়েক শিক্ষক কলেজের বাইরে তাদেরকে ফ্রি পড়িয়েছেন এবং কোচিং করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের তত্ত্বাবধানে এবং সঠিক দিক নির্দেশনায় আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছেন।
যশোরের বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অসীম চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা সাধ্যমতো এদের সহযোগিতা করছি।’
তিনি জীবনযুদ্ধে এগিয়ে চলা অদম্য তিন শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান, শিক্ষানুরাগীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন