এবার কালীগঞ্জে সন্ধ্যারাতে ‘বন্দুকযুদ্ধ’

আপডেট: 01:53:42 25/05/2018



img

তারেক মাহমুদ, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : কালীগঞ্জে এবার সন্ধ্যারাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধের কথা বলছে পুলিশ। এতে শামিম সরদার (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন; যাকে মাদক ব্যবসায়ী বলছে পুলিশ।
তবে শামিমের স্ত্রীর দাবি, সাদা পোশাকধারী অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গত মঙ্গলবার তার স্বামীকে মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। অপহৃত হওয়ার সময় তিনি নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করছিলেন।
কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ১৭ বোতল ফেনসিডিল এবং ৪৮০ পিচ ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করেছে।
নিহত শামিম সরদার কালীগঞ্জ শহরের শিবনগরের মমিন সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় ছিলেন মোটরপার্টস বিক্রেতা ও রং মিস্ত্রি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, তিনি এর পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খানের ভাষ্য, শহরের আড়পাড়া এলাকার ওয়াপদা সড়কে একদল ব্যবসায়ী মাদক বেচাকেনা করছে বলে খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে থানা পুলিশের একটি টিম সেখানে যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। এসময় অন্যরা পালিয়ে গেলেও মাদক ব্যবসায়ী শামিমকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। কিন্তু হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার মাহফুজুর রহমান সোহাগ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের দাবি, বন্দুকযুদ্ধকালে তাদের চার সদস্য আহত হন। তারা হলেন, এসআই শামিম, এএসআই অমিত এবং কনস্টেবল নাজিম ও রতন।
তবে নিহতের স্ত্রী শামছুন্নাহার ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার দাবি, গত মঙ্গলবার সন্ধেয় কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কের আড়পাড়ার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তার স্বামীকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকে থাকা একদল  লোক। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে প্রতিরাতে ১০-১২ জন করে নিহত হচ্ছেন কথিত বন্দুকযুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রায় সব ঘটনার মোটামুটি একই বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে। এসব কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে হয় মধ্যরাতে, না হয় ভোররাতে। কিন্তু এবার কালীগঞ্জে সন্ধ্যারাতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের।

আরও পড়ুন