যশোর ইনসটিটিউট নির্বাচন স্থগিত

আপডেট: 08:52:30 22/02/2018



img
img

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর ইনসটিটিউট নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে সংগঠনটির সভাপতি ও যশোর জেলা প্রশাসক মো. আশরাফ উদ্দিন নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিন ছিল আগামীকাল শুক্রবার। গঠনতন্ত্র সংশোধনের কিছু বিষয় চ্যালেঞ্জ করে এক সদস্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তার প্রেক্ষিতেই নির্বাচন স্থগিত করা হলো বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
আজ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে হঠাৎ করেই খবর আসে, যশোর ইনসটিটিউট নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। তখন ইনসটিটিউট চত্বরে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের অনেক প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ছিলেন। তারা কেউ শেষ সময়ের গণসংযোগ, আবার কেউবা প্রচারসামগ্রী টানানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।
নির্বাচন স্থগিতের খবরে উভয় প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অপেক্ষা না করে এক প্যানেলের প্রার্থীরা চলে যান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। উদ্দেশ্য, খবরের সত্যতা নির্ণয় করা।
সুবর্ণভূমির স্টাফ রিপোর্টার জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে জানান, প্রার্থী ছাড়াও যশোর ইনসটিটিউটের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা রাশুও সেখানে উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসক তার খাস রুমে ‘কিছু একটা’ কাগজ তৈরি করছিলেন।
এরপর রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি কাগজপত্রসহ বেরিয়ে আসেন এবং নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক জানান, আদালতের নির্দেশেই তিনি এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ তিনি বিলম্বে পেয়েছেন। এরপর মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে তিনি সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করলেন।
জেলা প্রশাসকের এই স্থগিতাদেশের ঘোষণা শুনে সেখানে উপস্থিত এক প্যানেলের পক্ষ থেকে যশোর ইনসটিটিউটের কমিটি ভেঙে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। তারা ইতিপূর্বে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নজিরও তুলে ধরেন।
জবাবে জেলা প্রশাসক জানান, তিনি আগে গঠনতন্ত্র দেখবেন। রোববার নাগাদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে নেমে আসার সময় মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল, যিনি নির্বাচনে একটি প্যানেলে লড়ছেন, সুবর্ণভূমিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন জেলা প্রশাসক নির্বাচন স্থগিতের আদেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাঠাবেন।’
ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনসটিটিউট বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক সংগঠন। এই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক। অন্যান্য পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন হয়। বরাবরের মতো এবারো দুই প্যানেল মুখোমুখি ভোটযুদ্ধে নেমেছে।
মর্যাদাসম্পন্ন সংগঠনটির নেতৃত্বে আসার জন্য শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। এবারের নির্বাচনের ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিন আগামীকাল শুক্রবার।

আরও পড়ুন